সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা, বিপ্লবী পরিষদের নিন্দা 
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।    ছবি: আরটিএনএন

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ ভোর রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিক মো. আলী হোসেন (৪৯) শাহাদাত বরণ করেন। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খোমেনী ইহসান বলেন, সীমান্তে বিএসএফের এই বর্বরতা এখন আর কোনো সাধারণ সীমান্ত উত্তেজনা নয়। গত কয়েক দশকে সীমান্তে শত শত বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, যার শিকার মূলত এদেশের নিরপরাধ মুসলিম জনতা। লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আলী হোসেনকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা ভারতের সুগভীর ও সুপরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন কর্মসূচির’ একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ভারতের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তে উভয় ক্ষেত্রেই মুসলিমদের রক্ত ঝরানো যেন তাদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে ভারত বারবার আমাদের সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করেছে। সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা পতাকা বৈঠকের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। এই ধরনের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বিএসএফকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। আমরা মনে করি, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর চপেটাঘাত।

বিবৃতিতে মো. আলী হোসেন হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন খোমেনী ইহসান। তিনি সরকারকে বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ উত্থাপন করতে হবে। ভারতের প্রতি বিদ্যমান নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। শহীদ আলী হোসেনের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং খুনি বিএসএফ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে তুলতে হবে।

বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি সীমান্তে এই রক্তপাত অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তবে দেশের দেশপ্রেমিক জনতা বিএসএফের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে একজন নাগরিকের জীবনও যেন আর সস্তা না হয়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।