অভিষেক শর্মা, সুনীল গাভাস্কার, ভারত, বিশ্বকাপ
বড় শট খেলার আগে নিজেকে থিতু হতে হবে, এই উপদেশেই অভিষেককে দিয়েছেন সুনীল গাভাস্কার   ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অভিষেক শর্মাকেই ভাবা হচ্ছিল ভারতের 'তুরুপের তাস'। অথচ ভারতের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হলেও বিশ্বসেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের ব্যাট থেকে কোনো রান আসেনি। তিন ম্যাচে শূন্য রান—বিষয়টি আসলেই গভীর চিন্তার কারণ। আগামী রবিবার সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের পরবর্তী ম্যাচ, তাই অভিষেকের হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় খুব কম। ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলছেন, অভিষেককে "প্রত্যাশার ভার" ভুলে উইকেটে সময় কাটাতে হবে এবং বড় শট খেলার আগে নিজেকে থিতু হতে হবে। খেলা তিনটি ম্যাচে অভিষেক সব মিলিয়ে মাত্র আটটি বল ক্রিজে টিকেছিলেন।

স্টার স্পোর্টসে সুনীল গাভাস্কার বলেন, "হয়তো প্রত্যাশার চাপ তার ওপর একটু বেশিই পড়ছে। সে চমৎকার ছেলে। যদি প্রথম ম্যাচেই উড়ন্ত সূচনা পেত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে দলের এক নম্বর ব্যাটার, বড় ছক্কা হাঁকানো খেলোয়াড় হওয়ার চাপ তাকে কিছুটা কাবু করে ফেলেছে।"

তিনি আরও বলেন, "তার হাতে শটের যে বৈচিত্র্য আছে, তাতে তাকে উইকেটে আরেকটু সময় দিতে হবে। ইনিংসের শুরুতেই বাউন্ডারি বা ছক্কা মারার চেষ্টা না করাই ভালো। যদি সুযোগ আসে তো ভালো, কিন্তু জোর করে আড়াআড়ি ব্যাটে বড় শট খেলার চেষ্টা করা ঠিক না। এমনকি যদি চারটা ডট বলও হয়, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ পরের চার থেকে আট বলের মধ্যেই সে সেটা পুষিয়ে নিতে পারবে।"

গাভাস্কার অভিষেক শর্মাকে কোনো পূর্বপরিকল্পিত প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা না করে "স্মার্ট ক্রিকেট" খেলার পরামর্শ দিয়েছেন।

গাভাস্কার বলেন, "তাকে স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে। পায়ে জড়তা কাটাতে হবে। রানের খাতা খুলতে হবে। আপনি যখন ভারতের হয়ে খেলছেন, তখন রান শুরু করাটাই আসল, বাকি সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। যেভাবে সে আউট হচ্ছে, তা খুবই অনুমানযোগ্য (predictable)। তার মানসিকতা এমন হয়ে গেছে যে, 'আমাকে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, আমাকে সেটাই করে দেখাতে হবে।' আসলে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার—কয়েকটা সিঙ্গেল নিলে পিচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একবার সেট হয়ে গেলে সে বড় স্কোর করবেই।"

সর্বশেষ আউট হওয়ার মাধ্যমে ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মা পাঁচটি 'ডাক' বা শূন্য রানের রেকর্ড গড়লেন। এর ফলে এক পঞ্জিকাবর্ষে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি শূন্য রান করা ওপেনারদের তালিকায় তার নাম উঠল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবও, যিনি ২০২৫ সালে ছয়টি ডাক মেরেছিলেন।

সূত্র : এনডিটিভি

আরটিএনএন/এআই