পাকিস্তান ক্রিকেট দল, পিসিবি, আইসিসি
ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের হারের সুবাদে পাকিস্তান এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে   ছবি: সংগৃহীত

সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা পাল্লেকেলেতে ফিরছে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করেই। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের হারের সুবাদে পাকিস্তান এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে। তবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে তাদের এখন একটি নিখুঁত ও বড় জয়ের প্রয়োজন। শনিবারের এই লড়াইটি মূলত দুটি ধুঁকতে থাকা ব্যাটিং দলের মধ্যে—একদল (শ্রীলঙ্কা) চাইছে সম্মান বাঁচাতে ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা খুঁজতে, আর অন্যদল (পাকিস্তান) খুঁজছে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেরা ছন্দ।

পাকিস্তান কীভাবে সেমিফাইনালে উঠতে পারে?
যদি পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ১৬০ রান করে, তবে তাদের অন্তত ৬৪ রানে জিততে হবে। আর যদি তারা ১৬১ রান তাড়া করে, তবে হাতে অন্তত ৪০টি বল রেখে জিততে হবে। এই সমীকরণ যে অসম্ভব তা নয়—পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টেই নামিবিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের জয় পেয়েছে—তবে এখন মঞ্চটা অনেক বড়।

কন্ডিশন পিচ
পাল্লেকেলের কন্ডিশনে স্পিনারদের দাপট থাকার সম্ভাবনা প্রবল। টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত আটটি ভেন্যুর মধ্যে এই মাঠেই স্পিনাররা গড়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টার্ন পেয়েছেন এবং তাদের স্ট্রাইক রেটও সেরা। এই পরিসংখ্যান দুই দলের ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে স্লো বোলিংয়ের বিরুদ্ধে তারা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না।

দলের অবস্থা
পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট যাত্রা একেবারে ভেঙে না পড়লেও অনেকটা খাপছাড়া ছিল। সুপার এইটসের শুরুতে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়ে এবং তাদের ব্যাটিং লাইনআপও সম্মিলিতভাবে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। সাহিবজাদা ফারহান শুরুতে কিছুটা গতি এনে দিলেও, বাকি ব্যাটাররা রানের জন্য সংগ্রাম করছেন। সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে হলে ব্যবধান এবং রানের গতি—উভয় দিকেই তাদের নজর দিতে হবে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার সমস্যাগুলোও বেশ পরিচিত। তাদের ক্যাম্পেইন কখনোই ঠিকঠাক গতি পায়নি, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। পাথুম নিশাঙ্কার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে আগুনের অভাব এবং নড়বড়ে মিডল অর্ডার তাদের পতনের কারণ। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাথিশা পাথিরানার অনুপস্থিতিও দলকে ভুগিয়েছে। সুপার এইটসে তাদের বোলিং কিছু কিছু সময় ভালো করলেও, ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতছাড়া হয়েছে। হতাশ সমর্থকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে তারা এখন একটি দলগত পারফরম্যান্সের আশায় থাকবে।

ম্যাচ তথ্য:

কখন: ম্যাচ ৫০, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৭:০০টা (স্থানীয় সময়)

কোথায়: পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পাল্লেকেলে

কী আশা করা যায়: পিচে স্লো বোলাররা গ্রিপ পাবেন এবং স্পিন আবার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলা কঠিন হতে পারে, তাই জুটি গড়া এবং পরিস্থিতি বুঝে খেলা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তান ১৭-১২ ব্যবধানে এগিয়ে। ২০২৫ সাল থেকে খেলা ম্যাচগুলোতেও পাকিস্তান ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে আছে।

দলের খবর:
শ্রীলঙ্কা: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া কুশল মেন্ডিস এই ম্যাচে থাকছেন না। তার জায়গায় উইকেটকিপার হিসেবে কামিল মিশারা দলে আসতে পারেন।
সম্ভাব্য একাদশ: পাথুম নিশাঙ্কা, কামিল মিশারা (উইকেটকিপার), চারিথ আসালাঙ্কা, পবন রত্নায়েকে, কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), দুনিথ ওয়েলালাগে, দুশান হেমন্ত, দুশমন্ত চাকিরা, মহেশ থিকশানা, দিলশান মাদুশঙ্কা।

পাকিস্তান: এখনো একটি ম্যাচেও সুযোগ না পাওয়া নাসিম শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজের জায়গায় আসতে পারেন। অথবা আবরার আহমেদকে দলে নেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, ফখর জামান, উসমান খান (উইকেটকিপার), শাদাব খান, শাহীন আফ্রিদি, নাসিম শাহ/আবরার আহমেদ, সালমান মির্জা, উসমান তারিক।

২০২৪ পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে স্পিনের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার স্ট্রাইক রেট ১১২.৯৭, যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। পাকিস্তানের স্ট্রাইক রেট ১২৩.০৮, যা চতুর্থ সর্বনিম্ন।

এই সময়ে (মিনিমাম ২৫০ বল খেলা) ৯ জন খেলোয়াড়ের স্ট্রাইক রেট ১২৫-এর নিচে। এর মধ্যে চারজন পাকিস্তানের (উসমান খান, বাবর আজম, সালমান আগা এবং ফখর জামান) এবং দুজন শ্রীলঙ্কার (কুশল মেন্ডিস এবং চারিথ আসালাঙ্কা)।

বক্তব্য:
"আমি মনে করি দেশের হয়ে খেলার সময় ফিটনেস সবার আগে থাকা উচিত। এটা নিয়ে কোনো আপস চলে না। ইনজুরি থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। সবাই জানে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা কতটা ভালো এবং সে একজন মূল খেলোয়াড়। মাথিশা পাথিরানা এবং ইশান মালিঙ্গাও গুরুত্বপূর্ণ। এদের না থাকাটা একটা ধাক্কা, তবে আমি এটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছি না।" — দাসুন শানাকা, শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক।

"একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি সবসময় ভালো করতে চান এবং নিজের মূল্যায়ন করেন। আমরা দলের জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ফল কী হবে সেটা সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।" — সালমান মির্জা, পাকিস্তান পেসার।