শিরোপা হাতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের উল্লাস
শিরোপা হাতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের উল্লাস   ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তাদের নির্বাচিত ‘টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট’ ঘোষণা করেছে। রোববার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফাইনালে ভারত ৯৬ রানে হারায় নিউজিল্যান্ডকে। যার মাধ্যমে দশম পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে টিম ইন্ডিয়া। টুর্নামেন্ট শেষেই সেরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একাদশ সাজিয়েছে ক্রিকইনফো, যেখানে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটার এইডেন মার্করামকে।

দলের উইকেটকিপার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ভারতের সাঞ্জু স্যামসন। মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেই তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। শুরুতে একাদশে না থাকলেও সুযোগ পেয়ে নকআউট পর্বে টানা তিন ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তিনি। পুরো আসরে ৩২১ রান করার পাশাপাশি ২৪টি ছক্কা মেরে এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও গড়েন স্যামসন।

দলের ওপেনিংয়ে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। আট ইনিংসে ২৮৬ রান করার পাশাপাশি তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৫.৩১। পাওয়ারপ্লেতে প্রায় ১৮০ স্ট্রাইক রেটে রান করার পাশাপাশি ইনিংস বড় করতেও সফল ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে নকআউট পর্ব পর্যন্ত অপরাজিত ছিল।

তিন নম্বরে জায়গা পেয়েছেন ভারতের আরেক ব্যাটার ইশান কিষাণ। নয় ইনিংসে তিনি ৩১৭ রান করেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৩.২৯। গ্রুপ পর্বে নামিবিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্রুত অর্ধশতক করে আলোচনায় আসেন কিশান। পরে তিন নম্বরে নেমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। পেস বোলারদের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২১২ এবং স্পিনের বিপক্ষে ১৭৭।

মিডল অর্ডারে জায়গা পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার সিমরন হেটমায়ার। সাত ইনিংসে ২৪৮ রান করেন তিনি, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৬.৪৬। ধারাবাহিক দ্রুত রান করার পাশাপাশি স্পিনারদের বিপক্ষে ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। স্পিনের বিপক্ষে এই আসরে সবচেয়ে বেশি ১৫টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে।

ভারতের অলরাউন্ডার শিভম দুবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের রান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আট ইনিংসে ২৩৫ রান করার পাশাপাশি পাঁচটি উইকেটও নেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩১ বলে ৬৬ রান এবং সেমিফাইনালে ২৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস ছিল তার উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। ফাইনালেও ভারতের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দুবে।

অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া। নয় ইনিংসে ২১৭ রান করার পাশাপাশি তিনি নেন ৯টি উইকেট। ডেথ ওভারে তার ব্যাটিং ছিল বিশেষভাবে কার্যকর, যেখানে তিনি ১১৪ রান করেন প্রায় ১৯০ স্ট্রাইক রেটে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ২৭ রান ও দুটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পান্ডিয়া।

ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। আট ইনিংসে ২২৬ রান করার পাশাপাশি অফস্পিনে নেন ৯টি উইকেট। ফিনিশারের ভূমিকায় একাধিক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে তিনি ক্রিকইনফোর ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার’ তালিকার শীর্ষে ছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার সাত ম্যাচে ১০টি উইকেট নেন এবং ব্যাট হাতে করেন ১৪১ রান। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে তার বোলিং ছিল দুর্দান্ত। পাশাপাশি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। আট ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ উইকেটে ১৬ রান ছিল তার সেরা বোলিং।

পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ। আট ম্যাচে ১৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৬.২১। পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার এবং ডেথ সব পর্যায়েই ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ছিলেন তিনি।

আরেক পেসার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি। সাত ম্যাচে ১২টি উইকেট নেওয়া এই পেসার কানাডার বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেন। আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এই একাদশের ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে। ছয় ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়ে গ্রুপ পর্বে তিনি ছিলেন অন্যতম সফল বোলার। এছাড়া বেঞ্চে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা এবং নেদারল্যান্ডসের শ্যাডলি ভ্যান শাল্কউইককে।

এর মধ্যে ফারহান ৩৮৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন এবং একটি আসরে দুটি শতক করার নজিরও গড়েন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের সেরা পারফরমারদের নিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ সাজিয়েছে ক্রিকইনফো।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর সেরা একাদশ
সাঞ্জু স্যামসন, এইডেন মার্করাম, ইশান কিশান, শিমরন হেটমায়ার, শিভাম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, জেসন হোল্ডার, উইল জ্যাকস, আদিল রশিদ, জাসপ্রিত বুমরাহ ও লুঙ্গি এনগিডি।