মেসি বনাম রোনালদো: ইনজুরি ক্যারিয়ারে কার প্রতি কতটা সদয়?
মেসি বনাম রোনালদো: ইনজুরি ক্যারিয়ারে কার প্রতি কতটা সদয়?   ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলারদের ক্যারিয়ারে চোট এক অনাকাঙ্ক্ষিত কিন্তু অনিবার্য আগন্তুক। ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই বাধার মুখে পড়তে হয় প্রায় সব ফুটবলারকেই। তবে চোটের এই আঘাত সবার জন্য সমান বিপর্যয় নিয়ে আসে না। নেইমারের মতো অনেক তারকার ক্যারিয়ার চোটের কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। বিশেষ করে ফিটনেসের বরপুত্র রোনালদোর প্রতি চোট যেন সব সময়ই কিছুটা বেশি সদয় ছিল।

২০০২ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফিটনেসের সঙ্গে কোনো আপস করেননি ‘সিআর সেভেন’। পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চোটের কারণে রোনালদো মাঠের বাইরে ছিলেন মাত্র ৪৯০ দিন। যেখানে তাঁর সর্বোচ্চ টানা অনুপস্থিতি ছিল মাত্র ৭১ দিন। আধুনিক ফুটবলের চোটপ্রবণ যুগে এটি একটি বিস্ময়কর রেকর্ড।

রোনালদো ক্যারিয়ারজুড়ে ম্যাচ মিস করেছেন মাত্র ৭১টি। চোটের কারণে টানা ম্যাচ মিসের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছেছে কেবল একবার; ২০০৯-১০ মৌসুমে তিনি মিস করেছিলেন ১৩টি ম্যাচ। বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও তাঁর এই ঈর্ষণীয় ফিটনেস রেকর্ড তাঁকে অনন্য উচ্চতায় রেখেছে।

রোনালদোর দুই মৌসুম পরে ফুটবল মঞ্চে আগমন ঘটলেও চোটের আঘাতে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ভুগেছেন অনেক বেশি। ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ৮৪৯ দিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে ইন্টার মায়ামি তারকাকে। অর্থাৎ রোনালদোর চেয়ে মেসিকে ৩৫৯ দিন বেশি মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র

ম্যাচ মিস: রোনালদোর ৭১ ম্যাচের বিপরীতে মেসি মিস করেছেন ১২৫টি ম্যাচ (রোনালদোর চেয়ে ৫১টি বেশি)।

টানা অনুপস্থিতি: রোনালদোর টানা ম্যাচ মিসের সংখ্যা মাত্র একবার দুই অঙ্কে পৌঁছালেও, মেসিকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে ৮ বার।

দীর্ঘতম বিরতি: ২০০৬-০৭ মৌসুমে সর্বোচ্চ টানা ১৯টি ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন মেসি।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফুটবল মাঠে দক্ষতা ও শৈল্পিকতায় মেসি-রোনালদো সমানে সমান হলেও, শারীরিক সক্ষমতা ও চোটকে জয় করার দৌড়ে রোনালদো নিশ্চিতভাবেই অনেকটা এগিয়ে।