অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ অভিযান শেষ করে দেশে ফেরা ইরানের নারী ফুটবল দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, দেশে ফিরে আসা নিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরানের নারী ফুটবল দলকে বলছি, চিন্তা করো না, ইরান তোমাদের দুহাত ভরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, দলের সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়, খেলোয়াড়দের পরিবারগুলোর উদ্বেগ দূর করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তবে দলটির পাঁচ নারী ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়া মানবিক ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
গত ৩ মার্চ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় ইরানের খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকায় দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী দুই ম্যাচে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং স্যালুটও করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ওই পাঁচ খেলোয়াড় চাইলে অস্ট্রেলিয়াতেই অবস্থান করতে পারবেন এবং সেখানে তারা নিরাপদ থাকবেন। একই প্রস্তাব দলের অন্য সদস্যদের কাছেও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থী খেলোয়াড়রা হলেন অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি, মিডফিল্ডার ফাতেমাহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামৌদি এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদ্ধার’ সংক্রান্ত দাবি প্রশ্নবিদ্ধ, বিশেষ করে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে।
ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছিল।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, অস্ট্রেলিয়া মানবিক ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পাঁচ খেলোয়াড়কে পুলিশের নিরাপত্তায় একটি গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের নারী বিষয়ক সহসভাপতি ফারিদেহ সোজাই জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দলটি হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়।
এশিয়ান কাপ শেষে ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!