আফ্রিকান ফুটবলে নজিরবিহীন এক ঘটনায় ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রায় দুই মাস পর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা হারিয়েছে সেনেগাল। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) তাদের আপিল বোর্ডের রায়ের মাধ্যমে সেনেগালকে ফাইনালের অযোগ্য দল ঘোষণা করেছে এবং স্বাগতিক মরক্কোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।
সিএএফ জানায়, আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের ১-০ গোলের জয় বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে ম্যাচটি মরক্কোর পক্ষে ৩-০ গোলের জয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সংস্থাটি তাদের প্রতিযোগিতা নীতিমালার আর্টিকেল ৮২-এর ধারা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ব্যাখ্যা করেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ম্যাচের স্টপেজ টাইমে। মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেনেগাল দলের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান করেন। ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছু সমর্থক মাঠে প্রবেশের চেষ্টাও করেন। তখন ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সেনেগাল দল মাঠে ফিরে এসে খেলা পুনরায় শুরু করে।
খেলা আবার শুরু হলে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের নেওয়া পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। পরে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন পাপে গায়ে, যা তাদের শিরোপা জয়ের পথ তৈরি করেছিল। তবে ম্যাচ চলাকালে মাঠ ত্যাগ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে গুরুতর নিয়মভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে পরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নেয় সিএএফ।
প্রাথমিক শাস্তিমূলক শুনানিতে সেনেগালের ওপর ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করা হয় এবং দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে তখন ম্যাচের ফল পরিবর্তন করা হয়নি। পরবর্তীতে আপিল প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসে।
সিএএফের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি ম্যাচ চলাকালে রেফারির অনুমতি ছাড়া মাঠ ত্যাগ করে বা খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেই দলকে পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে। আপিল বোর্ড মনে করেছে, সেনেগালের মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি এই ধারার আওতায় পড়ে, যার ফলে তাদের জয় বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতল মরক্কো। অন্যদিকে সেনেগাল দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেও শেষ পর্যন্ত তা হারাতে হলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। আফ্রিকান ফুটবলে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সেনেগালের আরও আপিল করার সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলা ও ম্যাচ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!