প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড–এর নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল ঘরোয়া ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় বোর্ড সভাতেই তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। ক্রিকেটারদের পরিশ্রমের তুলনায় আগের বেতন কাঠামোকে তিনি ‘অপ্রতুল’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।

তামিম বলেন, “আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের—পুরুষ ও নারী—নিয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে, কিছু সংখ্যা দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ অবাক হয়েছি।”

সাবেক এই তারকা ওপেনার আরও বলেন, “আমাদের নারী ক্রিকেটার যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের ম্যাচ ফি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে? আমি জানি না আপনারা জানেন কি না। এটা একসময় ১ হাজার টাকা ছিল। পরে এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনোভাবেই যথাযথ নয়।”

 

WhatsApp Image 2026-04-09 at 10-34-38 AM

 

বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন—উভয় ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (এনসিএল) ম্যাচ ফি আগে ছিল ৭০,০০০–৭৫,০০০ টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে ‘এ’ ক্যাটাগরি ৩৫,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫,০০০ টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরি ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা করা হয়েছে।

নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যেখানে তারা ৫,০০০ টাকা পেতেন, এখন টি-টোয়েন্টিতে ১০,০০০ টাকা, ওয়ানডেতে ১৫,০০০ টাকা এবং দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে (লাল বলের খেলায়) ২০,০০০ টাকা পাবেন। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন ৩০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৪০,০০০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের চুক্তির তালিকায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ক্রিকেটার রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানান, নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে ক্রিকেটাররা গত চার মাসের বকেয়া অর্থও নতুন হারে সমন্বয় করে পাবেন।

তিনি বলেন, “ক্রিকেটারদের কারণেই আমাদের ক্রিকেট কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। তাই বোর্ড থেকে তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলাম বুলবুল–এর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন মাসের জন্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবালকে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছেন।