বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রচলিত ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। কেবল ৯টি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে আইসিসি। নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার রজার টুওসের নেতৃত্বাধীন আইসিসির একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ আগামী মে মাসের মধ্যেই বোর্ড প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা পেশ করতে যাচ্ছে।
নতুন এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মূল কাঠামোতে নিয়ে আসা। বর্তমানে এই তিন দেশ পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯ সালে শুরু হওয়া ডব্লিউটিসির বাইরে থাকায় বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায় না। এবার ১২ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্তমান নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আনার কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্তমানে যেখানে অন্তত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাধ্যতামূলক, সেখানে কেবল এক টেস্টের সিরিজকেও চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
৯টি পূর্ণ সদস্য দেশ দুই বছরের মধ্যে তিনটি করে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলে। একটি টেস্টের সিরিজ যুক্ত হলে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড লিগে খেলতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ জিম্বাবুয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় সফরে যাওয়ার পথে দলগুলোর বিপক্ষে একটি টেস্টের আয়োজন করতে পারে। ইংল্যান্ড হোম সামারে পাঁচটি টেস্ট সিরিজ খেলার আগে-পরে এই তিন দলের একটির সঙ্গে পয়েন্টের বিনিময়ে ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাবতে পারবে
রজার টুওসের এই কমিটি মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মাঝে টেস্ট ক্রিকেটকে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সেই উপায় খুঁজছে। গত নভেম্বরে তারা দুই স্তরের টেস্ট লিগের একটি মডেল প্রস্তাব করলেও বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশ তা গ্রহণ করেনি। তাই এবার ১২ দলের মডেলটি সামনে আনা হচ্ছে, যেখানে ছোট দলগুলোকে আতিথ্য দেওয়া বড় দলগুলোর জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক করার চেষ্টা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইংল্যান্ড তাদের ব্যস্ত হোম সামারে একটি বাড়তি ফাঁকা সময়ে এই তিন দেশের যেকোনো একটির সঙ্গে একটি মাত্র টেস্ট খেলে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ পাবে।
অবশ্য এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রথমত, মাত্র এক ম্যাচের সিরিজ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আদর্শের সাথে কতটা মানানসই হবে এবং দ্বিতীয়ত, এই বর্ধিত কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে কতটা টেকসই হবে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া আইসিসির পরবর্তী ফেস-টু-ফেস সভাতেই হয়তো এই প্রস্তাবগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। যদিও সভার ভেন্যু বা তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে ক্রিকেট দুনিয়া এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!