টানা তিন বছর ধরে কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বকাপের রেফারিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ।
টানা তিন বছর ধরে কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বকাপের রেফারিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ।   ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক বিশাল কর্মযজ্ঞের চূড়ান্ত রূপরেখা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টানা তিন বছর ধরে কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বকাপের রেফারিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, যাকে ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত ও শক্তিশালী রেফারি প্যানেল হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

এবারের মেগা আসরে মাঠের শৃঙ্খলা ও নিয়ম রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন মোট ৫২ জন প্রধান রেফারি, তাদের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং আধুনিক ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল বা ভিএআর বিশেষজ্ঞ। সব মিলিয়ে ছয়টি মহাদেশের ৫০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই বিশাল দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

ফিফার নির্বাচক প্যানেল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই তালিকায় নাম লেখাতে রেফারিদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক সক্ষমতার মতো কঠিন সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। ফিফার এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো আপস না করে কেবল ‘গুণগত মানকেই প্রথম অগ্রাধিকার’ দেওয়া হয়েছে।

ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা কিংবদন্তি পিয়েরলুইজি কলিনা গর্বের সাথেই জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচিত রেফারিরা বর্তমান বিশ্বের সেরা। বিগত তিন বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও মুভমেন্ট নিয়মিত মূল্যায়ন করার পরই এই চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। কলিনা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে এবার রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বড় পরিসর। তাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রেফারিদের এই বিশালাকার দল গঠন করা অপরিহার্য ছিল।

এই আধুনিক রেফারিং প্যানেলে নারী রেফারিদের অগ্রযাত্রাও বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। এবারের তালিকায় ছয়জন নারী ম্যাচ অফিশিয়াল স্থান পেয়েছেন, যা বিশ্ব ফুটবলে লিঙ্গসমতা ও নারী রেফারিংয়ের ক্রমবর্ধমান উন্নতির এক অনন্য নিদর্শন। শুধু মাঠের রেফারিই নয়, এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহারেও আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রথাগত গোললাইন প্রযুক্তি ও উন্নত ভার্সনের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমের পাশাপাশি থাকবে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হতে যাচ্ছে রেফারির চোখে দেখা লাইভ ফুটেজ, যা প্রথমবারের মতো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ফিফা রেফারিং বিভাগের পরিচালক মাস্সিমো বুসাক্কা জানিয়েছেন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। অসংখ্য সেমিনার, কর্মশালা এবং মাঠের পারফরম্যান্স পর্যালোচনার মাধ্যমে যোগ্যদের বেছে নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে, যেখানে এই রেফারিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশ্বকাপের চরম উত্তেজনার জন্য তৈরি করা হবে। মূলত অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক চমৎকার মিশেলে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভুল ও স্বচ্ছ রেফারিংয়ের আসর হিসেবে উপহার দিতে চায় ফিফা।