ইরান ফুটবল ফেডারেশন গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও ফিফা সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও ফিফা সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের উত্তাপেই এখন বেশি আলোচনায়। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা-সব মিলিয়ে আসর শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানায়। তাদের দাবি ছিল, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দো এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাব বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ফিফা এতে সম্মতি দেয়নি।

ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু অনেক আগেই নির্ধারণ করা থাকে। শেষ মুহূর্তে কোনো দলের জন্য আলাদা ভেন্যু পরিবর্তন করলে লজিস্টিক, সম্প্রচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে অস্থির হয়ে ওঠে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াই ভালো হতে পারে। তার এই বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এর জবাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্পষ্ট করে জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে না। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে ইরান। তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী এই গ্রুপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন ভেন্যুতে হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে- ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ শুধু মাঠের খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।