ঘন কুয়াশা, তেঁতুলিয়া
ভোরে ঘন কুয়াশা না থাকায় সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলেছে।   ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা চার দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও সোমবার জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে শীতের দাপটে স্বাভাবিক জনজীবন এখনো পুরোপুরি স্বস্তি পায়নি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ভোরে ঘন কুয়াশা না থাকায় সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলেছে, এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে।

এর আগের দিন রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

চলতি শীত মৌসুমে গত শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন। ওই দিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অনেক চালককে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে।

শীতের তীব্রতায় কাজ হারিয়েছেন অনেক দিনমজুর। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকেই গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যায়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও আজ তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিন শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এমকে/আরটিএনএন