জামায়াত নেতা, জ্বালানি তেল
ইসলামপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ট্যাংকে গোপনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।   ছবি: আরটিএনএন

পাবনা সদর উপজেলায় জামায়াত নেতার একটি অবৈধ তেল পাম্পে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী পাবনা জেলা জামায়াতের রোকন ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলে জানা গেছে।

রোববার (৮ মার্চ) জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় ট্যাংকে গোপনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। সরকারের নজর এড়িয়ে এসব তেল সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল তিনটার দিকে আলম হাজীর পাম্পে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে পাম্পটিতে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্লাস্টিকের ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ পেট্রোল মজুত ও বিক্রির বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

পরে পাম্পটির দেখভালকারী ও আলম হাজীর ভাই আব্দুল হান্নান-কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন ধারায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া তেল মজুতের মতো গুরুতর অপরাধের পরও প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড বা ফৌজদারি মামলা না দিয়ে তুলনামূলক লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অতীতেও এ পাম্পে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালের নভেম্বরে পাম্পটিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যান। তখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পাম্প পরিচালনার বিষয়টি সামনে আসে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম বলেন, অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনে জরিমানা করা হয়েছে এবং কাগজপত্র ঠিক করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। পাম্পটি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি জানা ছিল না। ভবিষ্যতে সংশোধন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী সাংবাদিকদের বলেন, পাম্পটি তার ছোট ভাই আব্দুল হান্নান দেখাশোনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।