বিস্ফোরণ
দিয়াশলাইয়ের বারুদ দিয়ে তৈরি ‘পটকা’ বিস্ফোরণ।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়ায় দিয়াশলাইয়ের বারুদ দিয়ে তৈরি ‘পটকা’ বিস্ফোরণে তিন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বাম হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুলই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

রোববার (৮মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভাংবাড়িয়া মিলপাড়ার একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

আহত শিশুরা হলো— সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রনক (১৩), পিতা জাকির হোসেন; তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হোসাইন (১১), পিতা উজ্জ্বল এবং একই শ্রেণির ছাত্র লাল মিয়া (১১), পিতা আমদ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুরা খেলার ছলে দিয়াশলাইয়ের কাঠি থেকে বারুদ সংগ্রহ করে দেশীয় পদ্ধতিতে ‘পটকা’ তৈরি করছিলো। সেটি তৈরির একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে তারা সবাই রক্তাক্ত জখম হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রনকের বাম হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুলই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। রনকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার ভয়াবহতা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। 

ওসি বানী ইসরাঈল বলেন, "শিশুরা কৌতূহলবশত ইউটিউব বা বড়দের দেখে এসব বিপজ্জনক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। দিয়াশলাইয়ের বারুদ বা দেশীয় বাজি যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, আজকের এই ঘটনাই তার প্রমাণ। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কী নিয়ে খেলছে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা। সামান্য অসতর্কতা আজ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ পঙ্গু করে দিল।"

​এলাকাবাসীর মতে, জনশূন্য বা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে শিশুরা এভাবে মরণফাঁদ তৈরি করছে তা কেউ টের পায়নি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।