চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের প্রায় চার হাজার সদস্য এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানিয়েছেন, সমন্বিত এই অভিযানে কয়েক হাজার সদস্য কাজ করছেন। অভিযানের অগ্রগতি ও বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
অভিযান শুরুর আগে সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান চলাকালে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সদস্যরা পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন।
গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭–এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার পর এলাকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তা স্থগিত ছিল।
ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানায় করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণের ঘটনাও ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীত পাশে লিংক রোডের উত্তরে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। যদিও এটি সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত, তবুও নগরের খুব কাছেই এর অবস্থান।
দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। গত চার দশকে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির অবৈধ বাণিজ্যও দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দখল ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। এর একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।
র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনার পর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াসিন আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানকে এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সন্ত্রাস, অবৈধ দখল ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং অতীতে হামলার ঘটনার কারণে অভিযান পরিচালনায় বাহিনীকে কৌশলী হতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!