ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) ভুল বুঝিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে অনৈতিক রেজুলেশন তৈরির মাধ্যমে পুনরায় পদ দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতারিত মেম্বারদের বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি বরাদ্দে অনিয়ম ও চরম দলীয় পক্ষপাতিত্বে লিপ্ত ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ প্রতিপক্ষদের প্রিজাইডিং অফিসার হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৪ মার্চ রাতে স্থানীয় একটি হাইস্কুল মাঠে কয়েকজন মেম্বারকে ডেকে বিভিন্ন অজুহাতে সাদা কাগজসহ রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন তিনি।
পরবর্তীতে বকেয়া বিল পাসের কথা বলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষদের পুরোনো রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর নেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মেম্বাররা দাবি করছেন, তাদের কাছ থেকে রেজুলেশন ছাড়াই সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সোনা রাণী জানান, রাতের অন্ধকারে পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তার বাসায় গিয়ে একটি সাদা কাগজে সই নেন। তিনি বলেন, “কেন বা কী কারণে সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়েছে, তা আমি জানি না। পরে লোকমুখে শুনেছি, তিনি চেয়ারম্যানের পদে ফেরার জন্য আমাদের সই অপব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।”
সুমিত্রা রাণী নামে আরেক সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার একই অভিযোগ করে বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারকে দিয়ে তার বাসায় কাগজ পাঠিয়ে সই নেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাদের সই কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
ওই ইউনিয়নের বাবুল মেম্বারসহ আরও দু-তিনজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাতক চেয়ারম্যান রাতের অন্ধকারে পাশের একটি স্কুল মাঠে ডেকে তাদের স্বাক্ষর নেন।
ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এখন একটাই আলোচনা—রাতের অন্ধকারে অনৈতিকভাবে স্বাক্ষর নিয়ে আবারও চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পেতে অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন নুরুল ইসলাম।
বিষয়টি জানার জন্য অভিযুক্ত পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, রায়পুরের পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চাকরি দেওয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!