নির্বাচন
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।   ছবি: আরটিএনএন

দীর্ঘ ১৪ বছর পর খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (কেসিসিআই) নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে সাবেক প্রভাবশালী একটি পক্ষ—এমন অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ী মহলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ১৪ বছর কোনো নির্বাচন ছাড়াই চেম্বারটি পরিচালিত হয়েছে। ওই সময়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক টানা ছয় মেয়াদে প্রায় ১২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়েই অন্যান্য পদেও পছন্দের ব্যক্তিদের বিনা ভোটে নির্বাচিত করা হতো।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চেম্বারের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ৩১ মার্চ নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়। আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিক অভিযোগ দাখিল করছেন এবং নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন কাজী আমিনুল হক—এমন অভিযোগও করেছেন অনেকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য ব্যবসায়ীদের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর ১ হাজার ৭০ জন নতুন সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তারা নিয়ম অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স, হালনাগাদ আয়কর রিটার্ন সনদ, রিটার্ন দাখিলের স্বীকারপত্র এবং ব্যাংক হিসাব জমা দিয়েছেন।

খুলনার ফাইজা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, কাজী আমিনুল হক তার অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ দাখিল করছেন। তার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন চেম্বারের সাবেক চুক্তিভিত্তিক সচিব নুর রূখসানা বানু ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বিশ্বরূপ সরকার। নতুন নেতৃত্ব এলে তাদের প্রভাব কমে যাবে বলেই তারা এমন অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কাজী আমিনুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

সরকার নিযুক্ত প্রশাসক ও খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে একটি পক্ষের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বাধা রয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।