ঈদ মানেই আনন্দের উচ্ছ্বাস, ঈদ মানেই খুশির অফুরন্ত রঙ। ঈদ মানেই দীর্ঘ ছুটি, যেখানে অবসর সময় যেন হয়ে ওঠে আরও আপন। ঈদ মানে বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠা, আর হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে কিছু অমূল্য মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার শেষে দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।সকলেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঈদের আনন্দ কিভাবে সুন্দরভাবে একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা যায়। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অপেক্ষা করে, কেউ আবার শৈশবের স্মৃতি মনে করে আবেগী হয়ে ওঠে। ঈদকে ঘিরে সবারই থাকে অধীর আগ্রহ, তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা, আগ্রহ একটু বেশি দেখা যায়। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময় তারা পরিবার ও আপনজনদের থেকে দূরে থাকে এবং পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে ঘন ঘন বাড়ি ফেরা হয় না। তাই ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটায়।তাদের ঈদ ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন RTNN নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাকিব মোহাম্মদ আরজু।
ঈদ নিয়ে আমার সাম্প্রতিক কিছু উপলব্ধি আছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি ও মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির এই করুন সময়টাতেও আমরা চাইলে পারি ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে।
আধ্যাত্মিকতা এখানেই যে, বিশ্বাসীরা যেকোনো অবস্থাতেই প্রশান্তি খুঁজে নিতে পারে। এজন্য আমাদের ছোট কিছু করনীয় আছে। আমাদের অনেক সহপাঠী বা তাদের পরিবারের হয়তো এবারের ঈদে যথেষ্ট সামর্থ্য হয়নি খরচ করার। আমরা চাইলে তাদের কোনো না কোনোভাবে তাদের পাশে থাকতে এবং সেটা সরাসরি সাহায্য না করেও সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত শো অফ, লৌকিকতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা পরিহার করার মাধ্যমেও চাইলে আমরা পরোক্ষভাবে অনেকের ঈদ আনন্দ অটুট রাখতে সাহায্য করতে পারি।
মুজতবা ফয়সাল নাঈম নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
“আমি বিদায় নিচ্ছি, তোমরা ঈমানের যত্ন নিও।”
— রমাদান
বিষাদের নরম ছায়া মেখে নীরবে বিদায় নেয় রমাদান, রমাদানের এই বিষাদকে আনন্দে রূপ দিতে আসে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে হৃদয়ের উচ্ছ্বাস , ঈদ মানে পুনর্মিলন, ঈদ মানে নতুনত্ব।
রমাদান শুধু সংযমের মাস নয়, এটা আত্মশুদ্ধির এক মহৎ প্রশিক্ষণ। মুমিনের আত্মশুদ্ধির স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ও পরবর্তীতে তা হৃদয়ে ধারণ করার স্পৃহার সম্মিলন ঘটায় রমাদান।
ঈদ আসে স্বপ্নগুলোকে বাড়ি ফেরাতে, মনের ভিতর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে দিতে। যদিও আমরা যারা বাড়ির পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তাদের আর “স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার” গানটা দিয়ে স্টোরি দেওয়া হয় না। তবুও ঈদের এই লম্বা ছুটিতে যখন নিজের নীড়ে ফেরা হয়, তখনকার আনন্দ অন্য সব সময়ের আনন্দকে পেছনে ফেলে দেয়। ঈদের ছুটিতে থাকে না ঘুমঘুম চোখে বাস ধরে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া, সিটি, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন কিংবা ভাইভার চাপ । ঈদের সকাল মানেই মায়ের হাতে নাস্তা বানানো। নতুন জামা-কাপড় পরে, মিষ্টি মুখ করে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার মুহূর্ত সবচেয়ে সুন্দর। পরস্পরকে নতুন পোশাকে দেখা, সালাম বিনিময়, আলিঙ্গন এসব মিলিয়ে এক অনন্য আনন্দ। ঈদ যেমন আনন্দের, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটুখানি বেদনা যাদের আমরা সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলেছি, তাদের আর ফিরে না পাওয়ার বেদনা। ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফিতরা প্রদান, যা সমাজের শ্রেণি-বৈষম্য কমিয়ে আনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। আমাদের উচিত ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া। সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক।
নাহিদা সুলতানা সৌরভী নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন পরিবারের সাথে ঈদ উৎযাপন করা হয়। শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের সবার পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। ঈদে পরিবারকে কাছে পাবার অনুভূতি অতুলনীয়। নিরাপদ ঈদ যাত্রাই সকলের প্রার্থনা। কিন্তু যে সকল শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে ঈদ করতে নাহ পেরে ভার্সিটি হলে কিংবা মেসেই থেকে যাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ আশা করছি।
সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার ইদ আনন্দমুখর হোক এই প্রার্থনা করি। সেই সঙ্গে সবার সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করি।
মেহেরাজ হোসেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
দীর্ঘ ৩০ টি দিন সংযম এর পর আমাদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। চারিদিকে খুশির আমেজ।
আল্লাহ তায়ালা এই সংযমের মাস আমাদের কে দিয়েছেন, আমরা যেনো এই রমজানের শিক্ষা বাকি ১১ টি মাস কাজে লাগাতে পারি! কিন্তু তা কি হয় আদৌ ? সংযমের দিন শেষ হতে না হতেই শুরু হয় অহংকার, অনিয়ম, দুর্নীতি এর তুমুল প্রতিযোগিতা । এইতো ঈদ এর কয়দিন আগে থেকেই সকল ধরনের যাত্রাপথে ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সমূহের মূল্যবৃদ্ধি। ঈদ টা কেমন যেনো মনে হয় শুধুই ধনী, বিলাসবহুল, বড়লোক পরিবার দের জন্য।
নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্য বিত্ত দের জন্য ঈদ ঘনিয়ে আসলে যেনো শুরু হয়, নতুন এক দুশ্চিন্তা। একই মহল্লায় কারও পাত্রে রান্না হয় পোলাও - কোরমা আর কেউ কেউ হয়তো টিসিবির ট্রাক থেকে চালের জন্য দীর্ঘ লাইনে দারিয়ে থেকেও চাল এর দেখা পান না। আমরা ক'জনই বা তাদের পাশে দারাই? তাদের খোঁজ নেই? হয়তো গুটি কয়েক মানুষ।
এই ঈদুল ফিতর ২০২৬ এ, একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হিসেবে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, সকল ধরনের অনিয়ম এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবো, প্রতিবাদ করে রুখে দিবো। নিজের আশেপাশের মানুষ দের সুবিধা-অসুবিধায় তাদের পাশে দাড়াবো! সুখ দুঃখ তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিবো।
তাহলেই আমার, আপনার সবার এই আনন্দের ঈদ পূর্নতা পাবে। সকলের ঈদ কাটুক আনন্দে উচ্ছাসে এবং নিরাপদে। সবাই কে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক
তানজিলুর রহমান মুয়াজ নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
এক মাসের কঠোর সিয়াম সাধনা, আত্মসংযমের প্রহর শেষে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ যখন আকাশের নীলিমায় মুচকি হাসে, তখন এটি উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে। বয়ে আনে হৃদয়ের শুদ্ধতা;পরম প্রশান্তির অমল ধারাস্নান।সেই উৎসব ইদুল-ফিতর!
ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভাগাভাগির মধ্যে।নিজের আনন্দকে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টায়। সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই ঈদের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই কালজয়ী সুরের অনুরণন দিয়েই বলা যায়-
"আজ ভুলে যা তোর দোস্ত্-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।"
ঈদ মানেই যেন নিজ নাড়ির টানে নীড়ে চলে আসা। শহরের কোলাহল ছেড়ে হাজারো মানুষ ট্রেন-বাস-লঞ্চে চড়ে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটে চলে। টিকিটের জন্য লড়াই, উপহার গোছানো ইত্যাদি।
ঈদের সকালটা শুরু হয় নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঈদগাহের জামায়াতে শরিক হয়ে। এরপর শুরু হয় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়। সেমাই-মিষ্টি আর নানা পদের খাবারের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়। ঈদের পরেও যেন রমজানের অর্জিত তাকওয়া বজায় থাকে এবং এই আনন্দ শুধু কয়েক দিনের জন্য না হয়ে সারা বছরের ভালো কাজের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
আসুন, এই ঈদে আমরা ব্যস্ততার ভিড়েও থামি, আপনজনদের ভালোবাসি এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।
ঈদ মোবারক।
নাজমুল ইসলাম নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
ঈদ মানেই খুশির অবিরাম স্রোত, ঈদ মানেই হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক অপার্থিব আনন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত দিনগুলো—ক্লাস, পরীক্ষা, সিটি, সেমিস্টারের চাপ—সবকিছুকে পেছনে ফেলে যখন বাড়ির পথে ফিরি, তখন মনে হয় প্রতিটি দিনই যেন একেকটি ছোট্ট ইদ। আর সেটি যদি হয় মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ইদুল ফিতর, তবে তো আনন্দের পরিমাণ যেন বহুগুণে বেড়ে যায়।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ইদ আসে এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে—যেন আত্মার ওপর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে দেয় এক নির্মল অনুভূতির স্পর্শে। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি মিলনেরও। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব—সবার সঙ্গে দেখা হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ তৈরি হয়
ইদের দিনগুলো ঘিরে থাকে নানান ছোট ছোট আনন্দে—বাড়িতে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন, হাতে রঙিন মেহেদির নকশা, বড়দের কাছ থেকে সালামি নেওয়া আর ছোটদের হাতে ভালোবাসার সালামি তুলে দেওয়া, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয় এক নৈসর্গিক আবহ। এই অনুভূতিগুলো শুধু চোখে দেখা নয়, হৃদয়ে গেঁথে থাকার মতো।
মাজেদা আক্তার নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!