গণভোট অধ্যাদেশ বহাল ও সংবিধান সংস্কার দাবিতে ইবির মানববন্ধন, শিক্ষা, ইবি, বৈছাআ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামি বিশ্বিবিদ্যালয়, গণভোট অধ্যাদেশ,
গণভোট অধ্যাদেশ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধনের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

গণভোট অধ্যাদেশ বহাল রাখা এবং অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল রাহাত, খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খানসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের সঞ্চালনায় এসময় বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদান করেন।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “সংবিধানের কথা বলে গণভোটের রায় বাতিল করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার চেষ্টা হলে সেটা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে। চব্বিশের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।”

ইবি শাখা বৈছাআ’র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “বাংলাদেশের সম্মানিত আইনমন্ত্রী বলেছেন, বায়াত্তরের সংবিধান নাকি আমাদের বেসিস। আমরা তর্কের খাতিরে আপনার কথা মেনে নিলাম। কিন্তু বায়াত্তরের সংবিধানই যদি বেসিস হয়, তাহলে পরবর্তী পঞ্চান্ন বছরে বাংলার আবাল-বৃদ্ধ মুক্তিকামী ছাত্র জনতাকে কেন এই সংবিধান মুক্তি দিতে পারলো না? কেন তা পনেরো থেকে ষোলোবার সংশোধন করা লাগলো?”

তিনি আরও বলেন, “বায়াত্তরের সংবিধানের মাধ্যমে যে বাংলার মুক্তিকামী জনতার সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট। এটা এখন ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। এই সংবিধান যদি আবারও বহাল থাকে, তাহলে যেভাবে পরবর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশে অরাজকতা তৈরির জন্য রক্ষীবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমাদের আশঙ্কা সেভাবেই বর্তমান সরকারও বাঙালি মুক্তিকামী জনতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে পারে এবং আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করবে।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ জীবন-ভবিষ্যতের চিন্তা না করে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাস্তায় নেমেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর সরকারি দল এখন বায়াত্তরের সংবিধানের দোহাই দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। কোন সংবিধান বলে এই ২৪-এর আন্দোলন হয়েছিল? কোন সংবিধান বলে জুলাই-আগস্টের বিপ্লব ঘটেছিল?”

সরকারের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। যারা তাদের রক্ত দিয়ে প্রায় ২০০০ ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে এই বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে, তারা প্রয়োজনে আবারও প্রাণ দিয়ে রাস্তায় নেমে গণভোট ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে।”

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামীকাল (২ এপ্রিল) সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এতে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।