বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রীদের আবাসিক কৃষিকন্যা হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রান্নার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম (রাইস কুকার ও হিটার) জব্দ করেছে হল প্রশাসন। হল প্রাধ্যক্ষের নির্দেশে হাউস টিউটর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সরঞ্জাম জব্দ করেন। তবে হল কর্তৃপক্ষের এমন কার্যক্রমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের ছাত্রীরা।
হল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টার পর থেকে হলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালায় হল প্রশাসন। এতে শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে ৪০ থেকে ৫০টি হিটার ও রাইস কুকার জব্দ করা হয় এবং ১৫টি হিটার ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করতে সতর্ক করা হয়। তবে আবাসন সংকট, হলের খাবারের নিম্নমান এবং ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানান শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষিকন্যা হল ও কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জব্দ করার নামে কিছু জিনিস নষ্ট করা হয়েছে। এই হিটার বা ইনডাকশনগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, এগুলো তো হল থেকে দেওয়া হয়নি। এগুলো যারা কিনেছে, তারা নিজেদের টাকায় কিনেছে। হল কর্তৃপক্ষ জরিমানা করতে পারত। যন্ত্রগুলো এভাবে নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ কি দেওয়া হবে?
হলের সিট সংকট ও ডাইনিংয়ের খাবারের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে? এর শেষ কোথায়? আমাদের সঙ্গে হল প্রশাসনের আচরণও সন্তোষজনক নয়। আমরা সারা বছর পানির সংকট ও সিট সংকট সহ্য করছি। এখন খাবার নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হলের ডাইনিংয়ের খাবার প্রায়ই এমন থাকে যে তা খাওয়ার উপযোগী নয়।
কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলে তীব্র সিট সংকট রয়েছে। চারজনের কক্ষে ছয়জন থাকতে হয়, পড়ার টেবিল রাখারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কিচেনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ছাত্রীরা বিকল্পভাবে রান্নার ব্যবস্থা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের অভিযান কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কৃষিকন্যা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, উপাচার্যের নির্দেশে হিটার ও রাইস কুকার জব্দ করা হয়েছে। হলের বিদ্যুৎ লাইন এসব যন্ত্র ব্যবহারের জন্য উপযোগী নয়; এগুলো মূলত লাইট ও ফ্যানের জন্য। হিটার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি হয়। বারবার সমস্যা সমাধানে উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত কর্মচারীও নিয়োগ দিতে হয়েছে।
আবাসন সংকট ও রান্নাঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো কক্ষ ফাঁকা রাখা হয়নি এবং নিয়মিত সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লোরে রান্নাঘর ছিল, তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে তা বন্ধ করতে হয়েছে।
ডাইনিং ব্যবস্থাপনা ও খাবারের মান নিয়ে তিনি বলেন, ডাইনিং ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাউস টিউটরদের তদারকি বাড়ানো হবে এবং আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!