পৈতৃক বাড়িতে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত, বিনোদন, সুচিত্রা সেন, মহানাইকা, পাবনা,
পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি।   ছবি: আরটিএনএন।

পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িতে তাঁর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) দুপুরে সুচিত্রা সেনের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে কেক কাটেন পাবনা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। এরপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. রাম দুলাল ভৌমিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, পরিষদের উপদেষ্টা কৃষিবিদ জাফর সাদেক, দপ্তর সম্পাদক শিশির ইসলাম ও কানিজ ফাতেমা।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অরূপ কুমার কুন্ডু, সাংবাদিক প্রবীর সাহা, মাসুদ রানা, সেলিম মোর্শেদ রানা, সাংস্কৃতিক কর্মী হাসান মাহমুদ, সাবেরা সুলতানা, ফজলুল হক সুমন প্রমুখ।

জন্মদিন উপলক্ষে মহানায়িকার বাড়ি উদ্ধারের দীর্ঘ সময় পার হলেও সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে না ওঠায় হতাশা প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, “বাড়িটিতে এখনো সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনের কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। দিন দিন বিষয়টি স্তিমিত হয়ে পড়ছে।” দ্রুত বাড়িটিকে আন্তর্জাতিক মানের সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালায় রূপান্তরের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি এই মহানায়িকা। অনন্য অভিনয়ের কারণে আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে সমুজ্জ্বল তিনি। বাংলা সিনেমাকে তিনি নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

সুচিত্রা সেনের প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। পাবনা শহরের বাড়িতে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা ইন্দিরা দেবীর পঞ্চম সন্তান ছিলেন সুচিত্রা সেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০টি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ৫৩টি এবং হিন্দি ভাষার ৭টি সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে।

কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন ৮২ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে পরলোকগমন করেন।