বাংলাদেশ ব্যাংক, স্পন্সর
স্পন্সর’ কোনো ব্যাংক বা ডেভেলপারকে প্রতিস্থাপন করে না; বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রকল্প অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে।   ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু প্রশমন প্রকল্পে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক উদ্যোগ ধারণা থেকে বিনিয়োগ পর্যায়ে যেতে বিলম্বিত হচ্ছে। অদক্ষ প্রক্রিয়া, অসম্পূর্ণ নথি এবং ব্যাংকযোগ্য কাঠামোর অভাব প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত।

এ প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক ক্লাইমেট ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম ‘স্পন্সর’ (স্কোপ) জলবায়ু প্রকল্প দ্রুত ব্যাংকযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ প্রকল্প প্রস্তুতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ সংযোগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করবে।

এই সহযোগিতার আওতায় ‘স্পন্সর’ প্রকল্প ডকুমেন্টেশন ও ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া মানসম্মত করবে, যাতে অর্থায়নে বিলম্ব কমে এবং দ্রুত ব্যাংকযোগ্যতা অর্জন সম্ভব হয়। পাশাপাশি গ্রিন বন্ড কাঠামোবিন্যাস, ইস্যু ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকারি সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালাও আয়োজন করা হবে। উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান (DFIs)সহ আন্তর্জাতিক পুঁজি আহরণেও ভূমিকা রাখবে প্ল্যাটফর্মটি।

‘স্পন্সর’-এর কো-ফাউন্ডার এ টি এম রাহাত মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের শুধু জলবায়ু তহবিল নয়, এমন কাঠামো প্রয়োজন যা প্রকল্পকে ব্যাংকযোগ্য, স্বচ্ছ ও সম্প্রসারণযোগ্য করে তোলে। আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক, ডেভেলপার ও নীতিনির্ধারকেরা একই তথ্যভিত্তিতে কাজ করতে পারবেন, ফলে ঝুঁকি কমবে এবং জলবায়ু উদ্যোগ দ্রুত এগোবে।

তিনি আরও জানান, ‘স্পন্সর’ কোনো ব্যাংক বা ডেভেলপারকে প্রতিস্থাপন করে না; বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রকল্প অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে। প্ল্যাটফর্মটি সুরক্ষিত ডেটা রুম, এআই-সহায়ক ডকুমেন্ট প্রস্তুতি ও মানসম্মত ওয়ার্কফ্লো ব্যবহার করে জটিল প্রস্তাবনাকে বিনিয়োগ-প্রস্তুত প্রকল্পে রূপান্তর করে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘স্পন্সর’ ২০২৫ সালে ‌‘কাটাপুল্ট: গ্রিন ফিনটেক’ পুরস্কার অর্জন করে এবং ১৩টির বেশি দেশে ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পে সম্পৃক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি অর্জন করবে এবং একটি টেকসই, ব্যাংকযোগ্য ও সম্প্রসারণযোগ্য সবুজ অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।