৩২ জীবন বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ১২ হাজার ৪২ কোটি টাকা।
৩২ জীবন বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ১২ হাজার ৪২ কোটি টাকা।   ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩২টির মোট (গ্রস) প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম আয় করেছে মেটলাইফ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

৩২টি কোম্পানির পাঠানো অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মেটলাইফ প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ৩ হাজার ৪৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ২ হাজার ৩৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এর পরেই রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৮৮৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৮৬৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংগ্রহ করেছে ৬৬৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫০০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় ৩৮৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৮৩ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ২৪৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৩২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ২১৫ কোটি ১ লাখ টাকা।

বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় ১০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। মার্কেন্টাইল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, জেনিথ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে।

আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় ৩৮ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় ৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা, প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংগ্রহ করেছে ১৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, এলআইসি বাংলাদেশ ১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।

শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২১ লাখ টাকা। এ ছাড়া সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ১ লাখ টাকা।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৩৬টি কোম্পানির মোট গ্রস প্রিমিয়াম আয় ছিল ১২ হাজার ৩০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সেই তুলনায় ২০২৫ সালে ৩২টি কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় কিছুটা কমেছে।

বীমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বাজার নির্ভরশীলতা এখনও বেশি। বড় কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকলেও মাঝারি ও ছোট কোম্পানির অনেকেই সংগ্রামে রয়েছে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য গ্রাহক আস্থা বাড়ানো, দাবি নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনা জরুরি।