বীমা খাত
আইডিআরএ।   ছবি: সংগৃহীত

দেশের জীবন বীমা খাতের লাইফ ফান্ড বা জীবন বীমা তহবিল সামান্য বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খাতের ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে তথ্য দেওয়া ৩২টি কোম্পানির মোট লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৬৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক বছর আগে এসব কোম্পানির লাইফ ফান্ড ছিল ৩৩ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে লাইফ ফান্ড বেড়েছে ৮৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে পাঠানো ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৬টি কোম্পানির লাইফ ফান্ড ছিল ৩৬ হাজার ৮৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৩ সালে লাইফ ফান্ড ছিল ৩৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা (অনিরীক্ষিত) এবং ২০২২ সালে ছিল ৩৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা।

তবে ২০২৫ সালের হিসাবের ক্ষেত্রে খাতের চারটি কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইফ ফান্ডের তথ্য দেয়নি। এগুলো হলো রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা কর্পোরেশন, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্য দেওয়া ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ১৯টির লাইফ ফান্ড বেড়েছে এবং ১৩টির কমেছে।

সবচেয়ে বড় জীবন বীমা কোম্পানি মেটলাইফ বাংলাদেশের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। তবে এক বছরে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.০৫ শতাংশ।

এরপর রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬.৫০ শতাংশ বেশি।

আরেক বড় কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৪৮ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৮৯২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮৪৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭৮১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

ছোট ও নতুন কিছু কোম্পানির লাইফ ফান্ডে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১৩ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৮৯.৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৮৬.১১ শতাংশ। বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৬৪.৫৭ শতাংশ। আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ১৪ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৬১.৪৭ শতাংশ।

অন্যদিকে কয়েকটি বড় কোম্পানির লাইফ ফান্ড কমেছে। এর মধ্যে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

এ ছাড়া প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ডও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

জীবন বীমা খাতের কয়েকটি কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইফ ফান্ড মূলত পলিসিধারীদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নির্দেশ করে। কোনো কোম্পানির লাইফ ফান্ড দীর্ঘ সময় নেতিবাচক বা খুব কম থাকলে গ্রাহকদের ঝুঁকি বাড়ে এবং সেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বীমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইফ ফান্ড দুর্বল হলে নতুন ব্যবসা অনুমোদন, লভ্যাংশ বিতরণ এবং এজেন্ট কমিশনের মতো বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন তারা।