ভোজ্য তেলের সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ 
ভোজ্য তেল।   ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভোজ্য তেল নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কোথাও সরবরাহ কম, আবার কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটর,বেইলি রোড ও কাওরান বাজার এলাকার কয়েকটি মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেল অনেক দোকানেই পর্যাপ্ত নেই। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৫৫ টাকা। তবে বাজার ঘুরে দেখা যায়, কিছু দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাওরান বাজারের মুদি দোকানি মো. আব্দুল মালেক বলেন, “কয়েক দিন ধরে তেলের সরবরাহ একটু কম। পাইকারি বাজার থেকেই আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

একই বাজারের আরেক বিক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “সব দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় সীমিত পরিমাণে তেল আসে, তাই সবাইকে দিতে পারি না।”

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু বিক্রেতা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। বাংলামোটর এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, “কিছু দোকানে তেল আছে, কিন্তু তারা বেশি দামে বিক্রি করছে। আবার কোথাও বলা হচ্ছে তেল নেই। এতে আমরা খুব সমস্যায় পড়ছি। ”

মগবাজার এলাকায় বাজার করতে আসা চাকরিজীবী মো. কামাল হোসেন বলেন “এক দোকানে এক দাম, আরেক দোকানে আরেক দাম। মনে হয় কেউ কেউ ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়ে রেখেছে।”

বেইলি রোড এলাকায় থাকা এক ব্যাচেলর শিক্ষার্থী জানান, “ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় তাদের মাসিক খরচ বেড়ে গেছে। সীমিত বাজেটে চলতে গিয়ে এখন অনেক সময় রান্নার পরিমাণও কমাতে হচ্ছে। দেশে কিছু না কিছুর দাম বাড়তেই থাকে এটা নিয়ে সরকারের কঠিন উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ।”

ক্রেতাদের দাবি, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।