ইউক্রেন, রাশিয়া, পুতিন, ট্রাম্প
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো   ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ন্যাবু) জানিয়েছে, দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশাল এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে গত নভেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

এক বিবৃতিতে ন্যাবু জানায়, “আজ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ‘মিডাস’ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ন্যাবুর গোয়েন্দারা সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে আটক করেছেন।” বিবৃতিতে সরাসরি গালুশচেঙ্কোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তিনিই গত বছর দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নভেম্বরে পদত্যাগ করেন।

ন্যাবু আরও জানায়, “আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।” ২০২৫ সালে ন্যাবু যখন দেশের জ্বালানি খাতে অর্থ পাচারের একটি ষড়যন্ত্র উন্মোচন করে, তখন পদত্যাগ করা বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর মধ্যে গালুশচেঙ্কো ছিলেন অন্যতম। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা।

ইউক্রেনের স্পেশালিস্ট অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপিও)-এর তথ্যমতে, প্রায় ১০ কোটি ডলারের এই কথিত কেলেঙ্কারির নেপথ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী তিমুর মিনডিচ। এসএপিও-এর তদন্তকারীরা বলছেন, গালুশচেঙ্কো জ্বালানি খাতে অবৈধ অর্থের প্রবাহ পরিচালনায় মিনডিচকে সহায়তা করতেন। এনারগোয়াটমের (রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা) সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের চুক্তি বাতিল বা পাওনা প্রদানে বিলম্ব এড়াতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করা হতো।

এই কেলেঙ্কারির জেরে ইউক্রেনের আগের দুই জ্বালানিমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এমনকি এর প্রভাবে জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফকেও চাকরি হারাতে হয়। তবে ওই দুই মন্ত্রী এবং চিফ অফ স্টাফ—সবাই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের আশায় ইউক্রেনের সংস্কার প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দুর্নীতি দমন। কারণ ইইউতে যোগ দিতে হলে দেশকে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অভিযোগে আইনপ্রণেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেনকো এবং একজন সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল উপদেষ্টাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই