বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন। যেখানে রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্মেলন বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণকারী কিছু চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের সাক্ষী হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের প্রকাশ্যে বিবাদ, ২০০৭ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষণ—যা কার্যত নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করেছিল, কিংবা ২০২৫ সালে জেডি ভ্যান্সের ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর কড়া আক্রমণ—প্রতিটি ঘটনাই সম্মেলনের পরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এবারের সম্মেলনের উত্তেজনা থিতিয়ে আসার পর যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো:
ইউরোপ কি ‘জেগে উঠবে’ পরিবর্তনশীল বিশ্বের সামনে?
২০২৫ সালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইউরোপীয় মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ ইউরোপীয় নেতাদের স্তম্ভিত করেছিল। সেই ঘটনার পর এবারের সম্মেলনে অনেকেই জরুরি বোধ নিয়ে হাজির হন। সম্মেলনের কয়েকদিন আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, “এটিই জেগে ওঠার মুহূর্ত। ইউরোপের জেগে ওঠার সময় এসেছে।”
মাখোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোট অটুট রেখেও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর জন্য একটি নতুন, স্বাধীন পথ তৈরির চেষ্টা করেছেন। উভয় নেতা জানান, তারা ইউরোপীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তার দেশ ব্রেক্সিট আমলের ব্রিটেন নয়।” ইউরোপকে ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ আখ্যা দিয়ে স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য-ইইউর নিবিড় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মানে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর সম্পর্কের কোনো দুর্বলতা নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ কি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে?
২০২৫ সালে ভ্যান্সের আক্রমণাত্মক সুরের বিপরীতে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অনেকটা আপোসকামী সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, “[যুক্তরাষ্ট্র] ইউরোপের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং আমাদের ভবিষ্যৎ সবসময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ছিল, আর ভবিষ্যতেও থাকবে।” ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়তে চায়, তার রূপরেখা তুলে ধরে রুবিও বলেন: “প্রয়োজন হলে আমরা একাই এটি করতে প্রস্তুত, [তবে] আমাদের পছন্দ এবং আশা হলো—আমরা ইউরোপের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই এটি করব।”
এই ভাষণ দেওয়ার মাত্র একদিন আগেই ইউগভ-এর এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপের ছয়টি বৃহত্তম দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বা সমর্থন গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুক্রবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ তার ভাষণে বলেন, “ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাগা (MAGA) আন্দোলনের সাংস্কৃতিক যুদ্ধ আমাদের নয়। আমাদের এখানে বাকস্বাধীনতার সীমানা সেখানেই শেষ হয়, যেখানে তা মানুষের মর্যাদা এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে যায়। আমরা শুল্ক বা সংরক্ষণবাদে নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্যে বিশ্বাসী।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের করতালি কুড়ায়।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস যুক্তরাষ্ট্রের “ফ্যাশনেবল ইউরো-ব্যাশিং” বা ইউরোপবিরোধী সমালোচনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন: “আমি যখন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করি, দেখি দেশগুলো আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ আমরা এমন সব মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করি, যা আজও অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়।”
সূত্র : দা গার্ডিয়ান
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!