ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ছোট সাবমিউনিশন ছড়িয়ে দেয়
ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ছোট সাবমিউনিশন ছড়িয়ে দেয়   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দিকে ইরান যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, তার বড় একটি অংশে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড ব্যবহারের কারণে সেগুলো প্রতিহত করা জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। টাইমস অব ইসরায়েল

সাম্প্রতিক এক সামরিক মূল্যায়নে আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকেই ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

আইডিএফের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বিস্ফোরণের সময় একটি বড় বিস্ফোরণের পরিবর্তে অসংখ্য ছোট সাবমিউনিশনে বিভক্ত হয়ে যায়। এসব সাবমিউনিশনের প্রতিটিতে কয়েক কেজি করে বিস্ফোরক থাকে এবং বিস্ফোরণের পর সেগুলো বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। 

সামরিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বিস্ফোরিত হলে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করা গেলেও ছড়িয়ে পড়া সাবমিউনিশনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যার মধ্যে উন্নত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি রয়েছে সাধারণত অনেক হামলাই প্রতিহত করতে সক্ষম। তবে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহারের ফলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ে। কারণ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করলেও তার ভেতরের বিস্ফোরক উপাদানগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এদিকে আইডিএফের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী মনে করছে, বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে ইরান এখনো কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে। কারণ সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে সাধারণত একবারে একটি বা অল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রই নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই গতকাল মধ্য ইসরায়েলের একটি নির্মাণস্থলে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই অঞ্চলের আরেকটি স্থানে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।