যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, যেসব রুশ তেল ইতিমধ্যেই জাহাজে তোলা হয়েছে, তৃতীয় দেশগুলোকে তা কেনার জন্য তার বিভাগ সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই সাময়িক অনুমোদনকে "সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত এবং স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এটি কেবল "ইতিমধ্যে পরিবহনাধীন (ট্রানজিট) তেলের" ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বেসেন্ট আরও দাবি করেন, "এটি রুশ সরকারকে বড় কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না, কারণ তারা তাদের জ্বালানি আয়ের সিংহভাগই তেল উত্তোলনের সময় আরোপিত কর থেকে পেয়ে থাকে।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করে। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের এই সংঘাতে রাশিয়ার তেল থেকে আয় ব্যাপক বেড়েছে। এই অল্প সময়েই মস্কো অতিরিক্ত ৬০০ কোটি ইউরো (৬৯০ কোটি ডলার) আয় করেছে। তেলের এই ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩২ সদস্যের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) গত ১১ মার্চ তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’-এর জারি করা এই লাইসেন্সটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোদমে চলা যুদ্ধ এবং ইরানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের মাত্র কয়েক দিন পরেই এই ঘোষণা এল।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়তে পারে, তবে সমালোচকদের মতে, এর ফলে ইউক্রেনে আগ্রাসনের দায়ে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পা দিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ইউক্রেনের জন্য "মারাত্মক আঘাত" এবং বিশ্বের জন্য "সুনামের হানি" হবে। ১০ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি প্রশ্ন তোলেন, "রাশিয়া যদি আগ্রাসী হয়, তবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কীভাবে তুলে নেওয়া যায়?" তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থায়ন বন্ধ করার জন্যই দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত সপ্তাহে ভারতকে সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য একই ধরনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব সাময়িক পদক্ষেপ সত্ত্বেও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ৮ মার্চ দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা নীতি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ফক্স নিউজকে রাইট বলেন, "আমরা কেবল একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মনে করি না সেখানে চাপে কোনো পরিবর্তন এসেছে... রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। রাশিয়ার প্রতি আমাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।"
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইরান রাশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রয়ে গেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!