বৈশ্বিক অস্থিরতায় আর্ন্তজাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দেয়ায় স্বর্ণের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স
বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০৩ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে এপ্রিল সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারও ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের উচ্চ দাম সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমছে। উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগকারীরা সুদ প্রদানকারী সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্ববাজারে দাম কমায় ঈদের আগে দেশের বাজারেও আরেক দফা কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ ৩ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩ বারই স্বর্ণের দাম কমিয়েছ বাজুস। তিন দফায় মোট কমানো হয়েছে মোট ৮ হাজার ১৬৫ টাকা।
সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
নেমো ডট মানির বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকবে বলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। ইরান সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, এই পরিস্থিতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণকে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরান তেল আবিবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের হাতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
তেলের উচ্চমূল্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ ধরে রাখার খরচ বাড়ে। ফলে এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, দিনের শেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ফেড টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। বিনিয়োগকারীরা ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছেন, যা থেকে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের নীতিগত দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। ফিউচার মার্কেটে ইঙ্গিত মিলেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে একবার এবং ২০২৭ সালের শেষ দিকে আরও একবার সুদের হার কমতে পারে।
জেমি দত্ত আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়, স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণের চাহিদা-এই দীর্ঘমেয়াদি কারণগুলো এখনও রয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৯ ডলার হয়েছে। প্লাটিনাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৩ দশমিক ৬৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৬০ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!