ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, নেতানিয়াহু
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু   ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে “খুবই কঠিন সন্ধ্যা” বলে অভিহিত করেছেন। হামলার প্রত্যক্ষ আঘাতে দুটি আবাসিক ভবনের সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং মাটিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।

‘ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম’-এর জরুরি উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর কয়েক ঘণ্টা আগে নিকটবর্তী দিমোনা শহরেও হামলায় ৩৩ জন আহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দিমোনায় চালানো এই হামলা তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে আগের একটি হামলার “জবাব”। দিমোনায় ইসরায়েলের একটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে।

ঘটনাস্থলে জরুরি পরিষেবার কয়েক ডজন সদস্যের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকেও সাইরেন বাজিয়ে পৌঁছাতে দেখা গেছে। নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিকে “খুবই কঠিন সন্ধ্যা” উল্লেখ করে বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের ওপর পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখবে। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে এটি একটি খুবই কঠিন সন্ধ্যা। আমরা সব রণাঙ্গনে আমাদের শত্রুদের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।”

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “দিমোনা ও আরাদ—উভয় শহরেই ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো হুমকি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কয়েকশ কেজি ওজনের বিস্ফোরকবাহী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই ব্যর্থতার কারণ তদন্ত করে দেখবে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করেছিল, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকাতে পারেনি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করব এবং এ থেকে শিক্ষা নেব।”

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আরাদ শহরে “ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি” হয়েছে। সেখানে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে একটিতে আগুন ধরে যায়। সামরিক বাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার স্কুলগুলোকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম-এর এক বিবৃতিতে মেডিক বা স্বাস্থ্যকর্মী রিয়াদ আবু আজাজ ঘটনাস্থলে “ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের” বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে প্রচুর বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক দেখা গিয়েছিল।”

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

আরটিএনএন/এআই