প্রেমিকা, হত্যা, প্রেমিক ,
প্রেমিকাকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন প্রেমিক ।   ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকা পলিপাল্লি মৌনিকাকে (৩১) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার দেহ থেকে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা চিন্তাদা রবীন্দ্রের (৩০) বিরুদ্ধে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে রবীন্দ্র ও মৌনিকার পরিচয় হয়। পেশায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রবীন্দ্র বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মৌনিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। তারা নিয়মিত বিভিন্ন পার্ক ও সিনেমা হলে দেখা করতেন।

সম্প্রতি রবীন্দ্রের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে গত রবিবার মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন রবীন্দ্র। সেখানে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র ক্ষিপ্ত হয়ে মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্র অনলাইন থেকে একটি ধারালো ছুরি কেনেন। সেই ছুরি দিয়ে তিনি মৌনিকার দেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন। পুলিশ জানায়, মরদেহের পা একটি ট্রলি ব্যাগে ঢোকানো ছিল এবং দেহের অন্যান্য অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রবীন্দ্র। স্বীকারোক্তিতে তিনি দাবি করেন, মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন এবং তাদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রের স্ত্রীকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। এই টাকা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই ঝগড়ার সূত্রপাত এবং পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ড।

বিশাখাপত্তনম পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে। নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।