ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল
হরমুজ প্রণালী   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন সিনিয়র উপদেষ্টা বৈশ্বিক জ্বালানি রুট নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হামলা আরও বাড়ায়, তবে হরমুজ প্রণালীর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, এই দুটি দেশের যেকোনো একটির সামান্য ভুল পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির মতে, তিনি বলেছেন যে ‘প্রতিরোধ বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড’ বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে ‘হরমুজ প্রণালীর মতোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করে।

মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ট্রাম্পের ‘সর্বনাশা পরিস্থিতি সৃষ্টির’ হুমকির পরই বেলায়েতির এই মন্তব্য এলো। বেলায়েতি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইতিহাস থেকে কিছু শিক্ষা নিলেও, তারা ‘এখনও ক্ষমতার ভূগোল বুঝতে পারেনি’।

ইয়েমেন উপকূলের কাছে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং এটি সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া জাহাজের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে কাজ করে। তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই জলপথে হামলা চালাতে প্রস্তুত। গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যা যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে এই গোষ্ঠীর হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।

হরমুজ প্রণালী আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য তা চিরতরে বদলে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যাকে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বলে জানিয়েছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে তাঁরা এখন সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই