রমজান, লেবু
রমজানকে সামনে রেখে ইফতারির উপকরণ কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় সবজির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।   ছবি: আরটিএনএন

পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে আজ। তবে তার আগেই রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস, সবজি ও ফলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় লেবু—ভালো মানের এক হালি লেবু কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ একটি লেবুর দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৫–৩০ টাকা। তুলনামূলকভাবে এক ডজন ফার্মের ডিম মিলছে ১০৫–১১০ টাকায়, যা প্রায় এক হালি লেবুর সমান।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহাখালী, কারওয়ানবাজার ও মগবাজারের বাজার ঘুরে একই রকম চিত্র দেখা যায়।

এসব বাজারের বিক্রেতারা জানান, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০–৪০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। বড় ও ভালো মানের লেবুর দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মৌসুম শেষের দিকে থাকায় সরবরাহ কমে যাওয়া এবং রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা।

রমজানকে সামনে রেখে ইফতারির উপকরণ কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় সবজির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চাহিদা বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে।

বর্তমানে বেগুন কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। শসার দামও বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। টমেটো ও গাজরের ক্ষেত্রেও কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম উঠেছে ৫৫–৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি চাপ কাঁচা মরিচে—কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়েছে। যদিও অনেক ক্রেতার অভিযোগ, চাহিদার সুযোগে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রধান আমিষ ব্রয়লার মুরগির দামও রমজানের আগে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে কেজি ছিল ১৬০–১৭০ টাকা, এখন তা ২০০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩২০–৩৫০ টাকায় উঠেছে। খামারে মুরগির মৃত্যুহার ও বাচ্চার দাম বাড়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০–৫০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা এখন ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলের বাজারেও একই চিত্র। রমজানে বেশি চাহিদা থাকা মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০–৮০ টাকা বেড়েছে। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩১০–৩৪০ টাকা এবং আপেল ৩৩০–৪০০ টাকায়। দেশীয় ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনে ৩০–৬০ টাকা বেড়েছে। পেঁপে, পেয়ারা ও বরইও আগের তুলনায় ১০–৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩–৪ টাকা বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ

নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মতে, রমজান এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। একসঙ্গে এত পণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

বিক্রেতাদের ধারণা, রমজানের প্রথম সপ্তাহে বাড়তি চাহিদার কারণে দাম চড়া থাকতে পারে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।