ইনচন–ঢাকা ফ্লাইট হঠাৎ বাতিল, ঈদের আগেই বিপাকে শত শত প্রবাসী, ফ্লাইট বাতিল, প্রবাসীর ভোগান্তি, ভোগান্তি, প্রবাসী, যুদ্ধ, ইনচন, টি’এয়ার, এয়ার প্রিমিয়া,
ইনচন-ঢাকা ও ঢাকা-ইনচন ফ্লাইট বাতিল তওয়ায় যাত্রীদের দূর্ভোগ বেড়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন থেকে ঢাকার সরাসরি চার্টার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৮৫০ জনেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। ১৬ ও ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় যাত্রীদের ঈদযাত্রা কার্যত ভেস্তে গেছে।

জানা গেছে, ১৬ মার্চ পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা ইনচন–ঢাকা–ইনচন রুটের চার্টার্ড ড্রিমলাইনার ফ্লাইট এয়ার প্রিমিয়া ও টি’ওয়ে এয়ার পরিচালনা করার কথা ছিল। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের পক্ষ থেকে ল্যান্ডিং পারমিশন না দেওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।

ফ্লাইট বাতিলের পর এয়ার প্রিমিয়া ঈদের আগে প্রায় ৫৮০ জন যাত্রীর কথা বিবেচনা করে পুনরায় ১৮ মার্চের জন্য আবেদন করে। তবে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ১৮ মার্চের ফ্লাইটটিও বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে, টি’ওয়ে এয়ার ১৬ মার্চের ফ্লাইট বাতিলের পর পুনরায় আবেদন করেনি বলে জানা গেছে।

এর ফলে ১৬ ও ১৮ মার্চের সব যাত্রী চরম বিপাকে পড়েন। অনেকে বিকল্প ফ্লাইটে অতিরিক্ত মূল্যে দেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকেই টিকিট না পেয়ে এখনো যাত্রা করতে পারেননি।

এদিকে ঢাকা থেকে কোরিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল এমন যাত্রীদেরও একই ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বেশি মূল্যে চীনের অন্যান্য এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে যাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

এ ঘটনায় যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও ব্যাপক বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে টিকিট রিফান্ড কার্যক্রম চলমান থাকলেও পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, ইনচন–ঢাকা রুটে বর্তমানে কোনো নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এসব চার্টার ফ্লাইটই যাত্রীদের প্রধান ভরসা ছিল। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই রুটে স্থায়ীভাবে সরাসরি শিডিউলড ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৪০,০০০ বাংলাদেশি বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই ইপিএস কর্মী। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যা এই রুটে নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বারবার হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা, অর্থ এবং সময়—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।