জেট ফুয়েল
দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে দেশে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৯০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শিগগিরই অন্যান্য জ্বালানিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ফলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসি জানায়, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই এ সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

নতুন নির্ধারিত দরে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। গত মাসে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ সর্বশেষ সমন্বয়ে লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বেড়েছে।

এর আগে চলতি মাসের ৮ মার্চ লিটারপ্রতি ১৭ টাকা ২৯ পয়সা দাম বাড়ানো হয়েছিল।

জেট ফুয়েল

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি আরও জানায়, গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার করে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছিল। তবে এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম বাড়ানো হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারেও।

এর আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ দায়িত্ব বিইআরসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিইআরসি জানায়, প্রজ্ঞাপনের পর থেকে নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে তা সমন্বয় করা হচ্ছে।