জ্বালানি সংকটে হোম অফিস ও রেশনিং বাড়ছে, তেল সংকট, তেল, জ্বালানি সংকট, জ্বালানি, যুদ্ধ, বিশ্ব তেল সংকট, ইরান, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, লেবানন, ফিলিস্তিন, পাম্প,
তেল সংকটে বিশ্ব নতুন করে হিসাব ও কৌশল অবলম্বন করছে।   ছবি: সংগৃহীত

প্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ—এ যেন এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, এমনকি তাপজনিত কারণে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কায় অনেকে।

তবে সংকট শুধু একটি দেশের নয়। ইরান-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তে পেট্রোল স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন এখন পরিচিত দৃশ্য।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়ার চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ নিচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল—করছাড়, রেশনিং, বিকল্প জ্বালানি, এমনকি হোম অফিসও।

পূর্ব আফ্রিকায় রপ্তানিতে অগ্রাধিকার:

কেনিয়া সরকার পচনশীল পণ্যের রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফুল, অ্যাভোকাডো ও সবজির মতো তাজা পণ্য দ্রুত রপ্তানির জন্য বন্দরের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবুও ক্ষতি এড়ানো যাচ্ছে না। দেশটির ফুল শিল্প ইতোমধ্যে মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে চা উৎপাদকরাও বাড়তি উৎপাদন ও পরিবহন খরচে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

পাশাপাশি ইথিওপিয়া সরকার জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং জরুরি সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে পরিবহন:

নাইজেরিয়া-তে পেট্রোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG) চালিত যানবাহন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) দিকে ঝুঁকছে।

নতুন পরিকল্পনায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, মোবাইল জ্বালানি ইউনিট এবং গাড়ি রূপান্তর কিট সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—পরিবহন খরচ কমানো এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস।

ভিয়েতনামে কর প্রত্যাহার ও হোম অফিস:

ভিয়েতনাম সরকার জ্বালানির ওপর পরিবেশ কর সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে, যাতে বাজারে দাম কমে আসে।

একই সঙ্গে নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে—যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া ও জাপান-এর কাছেও সহায়তা চেয়েছে।

মিয়ানমারে রেশনিং ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম:

সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার চালু করেছে কঠোর জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সপ্তাহে এক বা দুই কিস্তিতে কেনা যাবে, এবং তা ট্র্যাক করা হবে বারকোড ও কিউআর কোডের মাধ্যমে।

মোটরসাইকেল থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি—সবকিছুর জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবার যানবাহন এই সীমার বাইরে থাকবে।

এছাড়া সপ্তাহে একদিন সরকারি অফিসে বাধ্যতামূলক “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” চালু করা হয়েছে, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই পথে হাঁটার আহ্বান জানানো হয়েছে।

থাইল্যান্ডে ডিজেল সংকট ও কড়াকড়ি:

থাইল্যান্ড-এর অনেক এলাকায় ইতোমধ্যেই ডিজেল ফুরিয়ে গেছে। এতে পরিবহন, কৃষি ও মৎস্য খাত বড় ধাক্কা খাচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার—

জ্বালানির রিজার্ভ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে
২৪ ঘণ্টা সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করেছে
সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে

এমনকি এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা সীমিত করা ও হালকা পোশাক পরার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সংকটের মাঝে নতুন বাস্তবতা:

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট শুধু অর্থনীতির নয়—মানুষের জীবনযাত্রার ধরণও বদলে দিচ্ছে। হোম অফিস, বিকল্প জ্বালানি, রেশনিং—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক নতুন বাস্তবতা, যেখানে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা আর সাশ্রয়ই হয়ে উঠছে টিকে থাকার প্রধান কৌশল।

সূত্র: বিবিসি

আরবিএ/আরটিএনএন