রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও তেল পাম্পে তেল নিতে পরিবহন চালকদের ভিড় দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকেরা। কোথাও তেল সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সরবরাহ সংকটে সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে।
দেখা গেছে, সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক পাম্পে রেশনিং করে তেল দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে রাইড শেয়ারিং করা এক চালক বলেন, “অকটেনের জন্য সকাল ৭টা থেকে লাইনে আছি, এখন ১০টা বাজে। অ্যাপে বাইক চালিয়ে সংসার চালাই। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে বসে থাকলে আমার ৫০০ টাকার ট্রিপ নষ্ট হয়। পাম্প থেকে বলছে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেবে না। এই তেলে কয়টা ট্রিপ দেব আর সংসার চালাব কীভাবে?”
তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে নিজের মোটরসাইকেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাসে অনেক ভিড়, তাই কষ্ট করে বাইক কিনেছিলাম অফিসে যাওয়ার জন্য। এখন দেখছি বাইকই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন তেলের জন্য যে যুদ্ধ করতে হয়, তাতে শরীর ও মন দুই-ই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়বে।’
একই পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য অপেক্ষারত আরেক চাকরিজীবী বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে ইঞ্জিন চালু রেখে বসে আছি। অথচ পাম্প থেকে বলছে ১০০০ বা ১৫০০ টাকার বেশি তেল দেবে না। বড় গাড়ির জন্য এই তেল কিছুই না। অফিসে যাওয়া-আসাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শাহবাগের ওই ফিলিং স্টেশনের এক হিসাবরক্ষক বলেন, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন শত শত গাড়ির চাপ সামলাতে রেশনিং করতে হচ্ছে। অনেক সময় তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়, তখন কর্মীদের চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা।
মন্ত্রণালয় জানায়, ৩০ মার্চ সারা দেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
ভোর থেকেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ লাইনের কারণে আশপাশের সড়কেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব আশেপাশের এলাকাগুলোতেও পড়ছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা ডিপো থেকে দুপুরের দিকে তেল সরবরাহ আসার কথা রয়েছে। তবে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক চালকই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনমতো তেল পাচ্ছেন না।
এদিকে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আগেভাগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে কিছু জায়গায় তেল মজুত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!