আইএলডি, জরিপ, বিএনপি জোট, জামায়াত জোট
হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে আইএলডির জরিপে।   ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে করা এক জনমত জরিপে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য এগিয়ে থাকলেও আসনভিত্তিক পূর্বাভাসে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।

ইনস্টিটিউট ফর লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট (আইএলডি) পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি জোটের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে সমর্থন ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ০ দশমিক ২০ শতাংশ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আসনভিত্তিক পূর্বাভাস

জরিপের আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ১০৫টি আসনে জামায়াত জোট এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি জোট এগিয়ে আছে ১০১টি আসনে। বাকি ৭৫টি আসনে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষকদের মতে, এসব আসনে অল্প কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

জরিপে ভোটারদের লিঙ্গভেদে রাজনৈতিক পছন্দেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোট তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও নারী ভোটারদের মধ্যে বেশি সমর্থন পেয়েছে জামায়াত জোট।

মোট উত্তরদাতার মধ্যে ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ ছিলেন পুরুষ এবং ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ নারী।

ভোটারদের পছন্দের কারণ

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক পছন্দের কারণও জানতে চাওয়া হয়। বিএনপি জোটকে সমর্থনের পেছনে ভোটাররা সরকারের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রত্যাশা ও অতীত শাসনামলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াত জোটকে পছন্দ করার কারণ হিসেবে ভোটারদের একটি বড় অংশ নৈতিকতা, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

জরিপে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটার ছিলেন ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার ছিলেন ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভোটারদের। ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম ভোটার ছিলেন ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হিন্দু ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাকি অংশ বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

বিএনপি জোটকে সমর্থনের পেছনে ভোটাররা সরকারের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রত্যাশা এবং অতীত শাসনামলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াত জোটকে সমর্থনের কারণ হিসেবে নৈতিকতা, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরেছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ।

জরিপের পরিধি ও পদ্ধতি

আইএলডি জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনকে অন্তর্ভুক্ত করে টু-স্টেজ স্ট্র্যাটিফায়েড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিটি আসনে ১০০ থেকে ৩০০ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। পরে পোস্ট-স্ট্র্যাটিফিকেশন পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ আসন্ন নির্বাচনে ভোটের মাঠে দুই প্রধান জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সমীকরণ ততই পরিবর্তিত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।