জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করা এবং একই দিনে আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল এ মামলায় রায়ের দিন ঠিক করেন।
মামলার আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান, সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তাদের মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওইদিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। তারও আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রামপুরাতেও তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিরস্ত্র আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিতে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন আমির হোসেন। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করলে তিনি দৌড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন এবং ভয় দেখাতে গুলি ছোড়েন। আতঙ্কে তিনি ভবনের রড ধরে ঝুলে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় তলা থেকে এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন, যা তার দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ সরে গেলে তিনি নিচে ঝাঁপ দিয়ে আহত অবস্থায় তৃতীয় তলায় পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এখন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!