বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নাই। বাংলাদেশের জনগণের বদলে ভারতের অনুগত পাকিস্তানি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত গোলামির ফাঁস ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়া এ সংবিধান সংস্কার কিংবা সংশোধনের নাটক বাদ দিয়ে জনগণের ভোটে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংবিধান নিয়ে রাজনীতিতে চরম বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। আমরা রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পেলেও বাংলাদেশের নাগরিকদের ভোটে গঠিত গণপরিষদের মাধ্যমে এখানে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়নি। বরং পাকিস্তানের নাগরিকদের ভোটে পাকিস্তানের জন্য গঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে করা বাহাত্তরের গোলামী চুক্তির বলে বাংলাদেশের ওপর গণবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নকারীরা ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের নির্বাচন করার সময় অঙ্গীকার করেছিল কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী সংবিধান ও আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের পর অবৈধভাবে সংবিধান প্রণয়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণের ওপর ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতি অনুগত একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও শাসক শ্রেণী গড়ে তোলার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যার অবসান হয় না বলে এ দেশে ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ, বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান হওয়ার পরেও জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর চলমান বিতর্কের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা রেজিম পালিয়ে যাওয়ার পর বর্তমান সংবিধান পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল। এ কারণে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। তখন দেশ চলেছে সামাজিক চুক্তির আওতায়। কিন্তু ছাত্রজনতা অন্তর্বর্তী নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে শপথ গ্রহণের পর থেকে পরিত্যক্ত সংবিধান পুনর্বহালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশী নাগরিক আলী রিয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয় এবং হাসিনার রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গণভোটের নামে জুলাই বিপ্লবকে পরিত্যক্ত সংবিধানের আওতায় বৈধতার প্রশ্নের মুখে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সরকার ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কার কিংবা সংশোধনীর প্রক্রিয়া থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে এ দেশে অনেক নাটক হয়েছে। এখন নতুন জনগণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করুন। এজন্য বিদ্যমান সংসদ বহাল রেখেই আলাদা করে একটি গণপরিষদ গঠন করুন।
সমাবেশে তিনি অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার বিচার ও শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে পিলখানা, শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার বিচার দেখতে চাই। জুলাইয়ের হাজারো শহীদকে হত্যার ঘটনায় হাজারো খুনীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম- আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করা সময়ের দাবি। কারন জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনগণকে ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি অন্তরায় হলো বাহাত্তরের সংবিধান। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার বারংবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে এই সংবিধানের দোহাই দিয়ে। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে নতুন জনগণতান্ত্রিক সংবিধান প্রনয়ন করা সময়ের দাবি।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, দেড় বছর সংস্কারের নামে তামাশা করে নির্বাচনের পর সংসদে সংস্কারের নামে নাটক শুরু হয়েছে। কিন্তু জনগণ জানে ১২ ফেব্রুয়ারি কিভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, কিভাবে বিএনপি জামায়াত সরকার ও বিরোধী দল হয়েছে। তাই টালবাহানা না করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার করুন।
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত লজ্জিত যে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এসে আমাদের জনগণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি জানাতে হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি আমার আহ্বান, রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও নাগরিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পুরাতন গণবিরোধী সংবিধান বাতিল করুন ও নতুন জনগণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করুন।
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান বলেন, বিগত ৫৫ বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা তর্জমা করলে আমরা দেখতে পাই শাসক আসে শাসক যায়, জনগণ রক্ত দিয়ে যায়, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। কারণ বাংলাদেশে এই ৭২এর সংবিধান মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার বন্দোবস্ত ছাড়া এই রাষ্ট্র ও জনগণকে কিছুই দেয়নি।
স্বৈরাচার তৈরি করা ছাড়া বাহাত্তরের সংবিধান বাংলাদেশকে কী দিয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান বলে ক্ষমতাসীন দলগুলো সমস্ত লুটপাট গুমখুনের বৈধতা উৎপাদন করে সুদীর্ঘ এক জুলুমের রাষ্ট্র কায়েম করেছে। আমরা চাই একটা জনগণতান্ত্রিক সংবিধান, যেখানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। রাজনৈতিক দলের অসীম ক্ষমতা তৈরি করার সংবিধান ছুড়ে ফেলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আব্দুল আজীজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব মো: আশরাফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো: আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!