জামায়াত, নারী কর্মী, বিবি সাওদা
জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা।   ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭)। যিনি সাওদা সুমি নামেও পরিচিত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাওদার মুক্তির খবর জানান।

এর আগে, রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভা এলাকার নিজ বাসা থেকে সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাওদার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ বিষয়ে মতামত দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক তার এক পোস্টে বলেন, ভোলার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরনো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের অনুকরণ। তিনি দাবি করেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে বিনা অপরাধে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ‘থ্রি এস চেম্বার্স’-এর হেড অব চেম্বার ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির তার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “এক সাওদার লিখনীতে কেঁপে উঠলো ক্ষমতার মসনদ। সহ্য করতে পারলেন না।”

এছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকার কি পূর্ববর্তী সরকারের পথ অনুসরণ করছে? তিনি এই গ্রেপ্তারকে অযৌক্তিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। এই অভিযোগে বিবি সাওদা সুমিকে গ্রেপ্তার করা ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণের শামিল। তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি এবং গ্রেপ্তারের নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের কয়েকদিনের মধ্যেই মুক্তি পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।