রিয়াল মাদ্রিদ, এমবাপ্পে, ভালভার্দে, ম্যানসিটি
ভালভার্দে দুর্দান্ত ছিলেন মাঠে   ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব ১৬) প্রথম লেগের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর এই জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করা ফেদেরিকো ভালভার্দে। এই হারের ফলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটির জন্য টুর্নামেন্টে টিকে থাকাটা এখন বেশ কঠিন এক সমীকরণে পরিণত হলো। বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পেপ গার্দিওলার সিটি শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল, কিন্তু পাল্টা আক্রমণে (কাউন্টার অ্যাটাক) মাদ্রিদের গতির কাছে তারা পরাস্ত হয়।

গোল কিকের পর একটি দ্রুতগতির মুভে থিবো কোর্তোয়া ডান দিক দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ভালভার্দের কাছে। আর ২০তম মিনিটে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান এই উরুগুয়ে তারকা। ইনজুরিতে থাকা দলের মূল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম এবং রদ্রিগোর অনুপস্থিতিতে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের অনুপ্রাণিত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

ঠিক সাত মিনিট পর, বাম দিক থেকে দারুণ এক দৌড়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ভালভার্দেকে পাস দেন। অফসাইড ফাঁদ ভেঙে দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর ৪২তম মিনিটে আরেকটি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদ আবারও আঘাত হানে। ভিনিসিয়ুস বল নিয়ে এগিয়ে যান এবং ব্রাহিম দিয়াজ সেই বল ভালভার্দের দিকে বাড়িয়ে দেন। উরুগুয়ের এই তারকা অসহায় মার্ক গুহির মাথার ওপর দিয়ে বল ফ্লিক করে দারুণ এক ভলিতে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

বিরতির পর সিটি কিছুটা চাপ তৈরি করলেও, ব্যবধান আরও বাড়ানোর একটি দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের ভেতরে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুসকে দোন্নারুম্মা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় মাদ্রিদ, কিন্তু ভিনিসিয়ুসের সেই শট ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক।

বুধবারের অন্য ম্যাচে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) চেলসির বিপক্ষে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৫-২ গোলের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বদলি হিসেবে নামা কাভিচা কভারতসখেলিয়া এই জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

পার্ক দেস প্রিন্সেসে লুইস এনরিকের দল ব্র্যাডলি বারকোলা এবং উসমান ডেম্বেলের গোলে দুবার এগিয়ে গেলেও, মালো গুস্তো এবং এনজো ফার্নান্দেজ চেলসিকে দুবারই সমতায় ফেরান। তবে শেষ দিকে ভিটিনহার এক গোল এবং কভারতসখেলিয়ার জোড়া গোলে স্বাগতিকরা বড় জয় নিশ্চিত করে। এদিকে, নরওয়ের বোডো/গ্লিমট তাদের ঘরের মাঠ অ্যাসপমিরা স্টেডিয়ামের কৃত্রিম টার্ফে আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্পোর্টিং লিসবনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নরওয়ের দলটির এই স্বপ্নের মতো যাত্রা টানা পঞ্চম জয়ে রূপ নিল। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে সন্ড্রে ব্রুনস্তাদ ফেট নিজের আদায় করা পেনাল্টি থেকে গোল করেন। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ওলে দিদ্রিক ব্লোমবার্গ দূরহ কোণ থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলের লিড দ্বিগুণ করেন। ৭১তম মিনিটে ডেনিশ স্ট্রাইকার কাসপার হগ দুজন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল কেড়ে নিয়ে খুব কাছ থেকে নিখুঁত শটে দলের তৃতীয় গোলটি করে তাদের এই রূপকথার মতো জয় নিশ্চিত করেন।

বুধবারের দিনের প্রথম ম্যাচে, আর্সেনালের টানা আট ম্যাচের জয়যাত্রা থামিয়ে দিয়েছে বায়ার লেভারকুসেন। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লেভারকুসেনের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে কোনোমতে হার এড়িয়েছে গানাররা। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে রবার্ট আন্ড্রিচের হেডে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে ৮৯তম মিনিটে আর্সেনালের বদলি খেলোয়াড় এবং লেভারকুসেনের সাবেক তারকা কাই হাভার্টজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এই মৌসুমে চারটি শিরোপার দৌড়ে থাকা আর্সেনাল ইউরোপের এই শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল।