স্পেন এবং মিশরের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচের উত্তাপকে ছাপিয়ে সামনে এসেছে দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণ। গত রাতে বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বোধী কুরুচিপূর্ণ স্লোগান শোনা যায়। আর এই নেক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া জবাব দিয়েছেন স্প্যানিশ তরুণ স্টার এবং বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল।
ম্যাচ যখন তুঙ্গে, তখনই গ্যালারির একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে বারবার "যে লাফাবে না, সে মুসলিম"- এই আপত্তিকর স্লোগান ধ্বনিত হতে থাকে। যদিও এই অপমানজনক স্লোগানগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষ মিশরের দল ও তাদের সমর্থকরা, কিন্তু মাঠের ভেতর থেকে এটি তরুণ ইয়ামালের জন্য ছিল গভীর বেদনার।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ পোস্টে এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। তিনি স্প্যানিশ এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন: আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। হ্যাঁ, এই স্লোগানগুলো হয়তো সরাসরি আমার জন্য ছিল না, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এই অপমানসূচক কথাগুলো আমি মেনে নিতে পারি না। আমার পরিচয় নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।
ইয়ামাল আরও বলেন, যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে এভাবে বিদ্বেষ ছড়ায়, তাদের ফুটবল খেলা উপভোগের কোনো অধিকার নেই। তিনি এই আচরণকে ‘সম্পূর্ণ অজ্ঞানতা এবং বর্ণবাদ’ বলে অভিহিত করেন।
লামিনে ইয়ামালের এই সাহসিকতাকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা এবং তার বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনা। এই ঘটনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বর্ণবাদী আচরণে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। কাতালান পুলিশের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি এই আচরণকে পুরোপুরি 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, হাতেগোনা কয়েকজন মানুষের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার কারণে একটি বৈচিত্র্যময় ও পরমতসহিষ্ণু দেশ হিসেবে স্পেনের যে সুনাম রয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, দেশটির আইনমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানিওস এই বর্ণবাদী আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের ঘৃণা ছড়ানোর ঘটনা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, উগ্র ডানপন্থীরা সবসময়ই সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ খোঁজে। তাই এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা আজ আওয়াজ তুলবে না বা নীরব থাকবে, পরোক্ষভাবে তারাও এই ঘৃণ্য অপরাধের অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে।
ইয়ামালের এই দৃঢ় অবস্থান কেবল একজন ফুটবলারের প্রতিবাদ নয়, বরং এটি ফুটবল অঙ্গনে ক্রমশ বেড়ে চলা বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা।
বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মরোক্কান, আর মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির। মরক্কোর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই তিনি স্পেনের হয়ে খেলছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামাল স্পেন দলের অন্যতম তারকা। ইউরো ২০২৪ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর এবং এ গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও দলের বড় ভরসা তিনি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!