যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ অফিশিয়াল বহর ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আসন্ন এই আসরে মোট ১৭০ জন ম্যাচ অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন করবেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঘোষিত এই তালিকায় থাকছেন ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। বিশ্বের ৫০টি সদস্যদেশ থেকে নির্বাচিত এই অফিশিয়ালরা দীর্ঘ তিন বছরের পর্যবেক্ষণ, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে মনোনীত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিফা।
২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অংশগ্রহণ। প্রথমবারের মতো এক বিশ্বকাপে এই দুই দেশ থেকে তিনজন করে প্রধান রেফারি দায়িত্ব পালন করবেন। আর্জেন্টিনার হয়ে থাকছেন ইয়ায়েল ফালকোন পেরেজ, দারিও এরেরা ও ফাকুন্দো টেলো। তাদের মধ্যে টেলো ইতিমধ্যেই ২০২২ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে ব্রাজিল থেকেও প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন রাফায়েল ক্লস, উইল্টন সাম্পাইও ও র্যামন আবাত্তি। সব মিলিয়ে ব্রাজিল থেকে মোট নয়জন ম্যাচ অফিশিয়াল এই আসরে অংশ নিচ্ছেন, যা দেশটির জন্য একটি রেকর্ড।
ইউরোপের শীর্ষ লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকেও সাতজন অফিশিয়াল নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেইলর। একই সঙ্গে ভিএআর দায়িত্বে থাকবেন জ্যারেড জিলেট।
উত্তর আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) থেকেও ১১ জন অফিশিয়াল সুযোগ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইসমাইল ইলফাথ ও তোরি পেনসো এবং কানাডার ড্রিউ ফিশার প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভিএআর প্যানেলে থাকছেন জো ডিকেরসন ও আরমান্দো ভিয়ারিয়াল।
নারী রেফারিদের অংশগ্রহণও এবারের বিশ্বকাপে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ৩৯ বছর বয়সী তোরি পেনসো, যিনি ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন, এবারও দায়িত্বে থাকছেন। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিটকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একমাত্র পূর্ণ নারী অনফিল্ড রেফারিং দল।
নারী রেফারিংয়ের ইতিহাসে আলোচনায় থাকা স্টেফানি ফ্রাপার্টও আন্তর্জাতিক ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পুরুষদের ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং তখন কোস্টারিকা–জার্মানি ম্যাচে সম্পূর্ণ নারী রেফারি দলের অংশ ছিলেন।
এবারের তালিকায় আরও রয়েছেন ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক, ইউরো ২০২৪ ফাইনালের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ইস্তভান কোভাকস এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা ফাইনালের রাফায়েল ক্লস। অভিজ্ঞ ও শীর্ষ পর্যায়ের এই রেফারিদের উপস্থিতি আসন্ন বিশ্বকাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিফা জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ম্যাচ অফিশিয়াল ও সহকারী রেফারিরা অবস্থান করবেন মায়ামিতে, আর ভিএআর অফিশিয়ালদের কেন্দ্র হবে ডালাস। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুনত্ব, যেখানে রেফারিদের শরীরে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর আগে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ের লুইজি কলিনা বলেছেন, নির্বাচিত অফিশিয়ালরা বিশ্বের সেরাদের মধ্য থেকেই বাছাই করা হয়েছে। তার মতে, এটি শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, মানের দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রেফারিং দল হতে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে ৪১ জন বেশি অফিশিয়াল থাকছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এই বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দল ও ম্যাচসংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং পরিচালনা কাঠামো, প্রযুক্তি ও রেফারিং ব্যবস্থাতেও এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছে ফুটবল মহল।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!