নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়লো মহাজাগতিক নতুন বস্তু ‘ক্লাউড-৯’।
নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়লো মহাজাগতিক নতুন বস্তু ‘ক্লাউড-৯’।   ছবি: সংগৃহীত

নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন।  যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলা হচ্ছে। পৃথিবী থেকে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’। 


নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন।  যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলা হচ্ছে। পৃথিবী থেকে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’। 

সাধারণ ছায়াপথ কোটি কোটি নক্ষত্র বা তারা দিয়ে গঠিত হলেও  পর্যাপ্ত কোনো তারা নেই এই বিচিত্র বস্তুটিতে। গবেষকদের মতে, এটি মূলত ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অন্ধকার পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বিশাল মেঘ। 

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইএসএ)-এর গবেষক র‍্যাচেল বিটন ও অ্যান্ড্রু ফক্স এই আবিষ্কার সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, ক্লাউড-৯ অন্ধকার মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অনন্য জানালা খুলে দিয়েছে। মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ উপাদানই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো নির্গত বা প্রতিফলন করে না বলে সাধারণ টেলিস্কোপে তা দেখা অসম্ভব। 
 ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে যে, এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করবে। 

ইতালির মিলানো-বিকোকা ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক আলেজান্দ্রো বেনিতেজ-ল্যাম্বায় এই আবিষ্কারকে একটি ব্যর্থ ছায়াপথের গল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, বস্তুটির একটি পূর্ণাঙ্গ ছায়াপথ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। 
 এই বস্তুটি ‘রিআয়নাইজেশন-লিমিটেড এইচ আই ক্লাউড’ বা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাবিশ্বের শুরুতে ছায়াপথ তৈরির সময় যেসব অবশিষ্টাংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল, এটি তারই একটি আদিম রূপ।

তবে ক্লাউড-৯-এ কোনো তারার আলো নেই বলে বিজ্ঞানীরা সেখানে বিশুদ্ধ ডার্ক ম্যাটার ‘হেলো’ বা বলয় কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও অনেক ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে