ঈদকে সামনে রেখে অবৈধ মজুদ ঠেকাতে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও মেহেরপুরের গাংনীতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় হেমায়েতপুর বাজারে বাড়তি দামে অবাধে চলছে তেল বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংনীর হেমায়েতপুর বাজারের ‘ভাই ভাই হার্ডওয়ার’ নামের একটি দোকানে নিয়মিত ডিজেল, পেট্রোল ও মবিল বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও দোকানটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অনুমোদিত এজেন্ট নয়। তবুও সেখানে ব্যারেলভর্তি ডিজেল মজুদ রাখা হয়েছে এবং প্রতি লিটার ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে, কৃষকরা ফিলিং স্টেশন ঘুরেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। অথচ অতিরিক্ত দাম দিলেই হেমায়েতপুর বাজারে সহজেই মিলছে তেল।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানের মালিক জজ মিয়া অনিয়ম করে তেল বিক্রি করছেন। সরকারি দামে তেল কিনতে আসা অনেক ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও বেশি দামে বড় পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর গ্রামের কালু মিয়ার কাছে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ লিটার ডিজেল বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রেজাউল করিম। তবে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সামনেই ২৫০ লিটার ডিজেল নিয়ে চলে যান ক্রেতা কালু মিয়া।
এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষের ভিড়ের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’
অভিযুক্ত দোকানি জজ মিয়ার দাবি, তিনি চুয়াডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া বাজারের পান্নার কাছ থেকে ডিজেল কিনে এনে বিক্রি করেন।
জানা গেছে, এর আগে তেল মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে পান্নাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় এবং মজুদকৃত তেল সরকারি দামে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। তবে এরপরও থামেনি তার মজুদ কার্যক্রম।
জজ মিয়ার মতো আরও কিছু দোকানির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!