কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর (৫২)। শনিবার উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে তার নিজ আস্তানায় কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষের হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাস্টার্স পাস করা এই সাবেক শিক্ষক কীভাবে ‘পীর’ হয়ে উঠলেন এবং কেনই বা তাকে প্রাণ দিতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শামীম রেজার একটি পুরনো ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কুরআন নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে শনিবার জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শামীমের আস্তানার কাছে পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজিত জনতা শামীম রেজার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শামীম রেজাকে আস্তানা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানানো হয়েছে।
নিহত শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। কয়েক বছর আগে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং নিজের বাড়িতে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’ নামে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি নিজেকে পীর হিসেবে দাবি করে কিছু অনুসারী তৈরি করেন। এলাকায় তিনি ‘জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
এটিই প্রথম নয়, ২০২১ সালের মে মাসেও ধর্ম অবমাননার একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছিল। ওই সময় তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, জামিনে বেরিয়ে আসার পর তিনি পুনরায় তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও প্রচারণা শুরু করেন, যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে উসকে দেয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!