বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ‘চালবাজি’ করলে চড়া শুল্ক, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ট্রাম্প, শুল্ক, ট্যারিফ, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, বাণিজ্য, ব্যবসা,
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশ্বজুড়ে আরোপ করা শুল্কের বড় অংশ আটকে যাওয়ার পর নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ‘চালবাজি’ বা টালবাহানা করবে, তাদের ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট  ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অধিকাংশ শুল্ক বাতিল করে দেন। ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে গত বসন্তে যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের ভাষ্য, এই আইনে প্রেসিডেন্টকে এমন বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

রায়ের পরপরই নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল- এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দেশগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, কেউ যেন আদালতের রায়কে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসে। তাঁর ভাষায়, যেসব দেশ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুট’ করেছে এবং এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অজুহাত বানাতে চায়, তাদের আরও চড়া শুল্কের মুখে পড়তে হবে- এমনকি সম্প্রতি যে হারে শুল্কে তারা রাজি হয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়েও কঠোর হবে।

আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বিকল্প আইনি পথ বেছে নেয়। ভিন্ন একটি আইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা পরে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। কিছু পণ্য ছাড়া এই শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

এ ছাড়া ট্রাম্প ‘সেকশন ১২২’ নামের একটি আইন প্রয়োগ করেছেন, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এ আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন। পাশাপাশি ‘সেকশন ৩০১’ আইনের অধীনে তথাকথিত ‘অসৎ’ ও ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, আইনি পথ পরিবর্তিত হলেও নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবিসি ও সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রশাসন স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর পাশে থাকবে এবং অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকেও একই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিভিন্ন দেশ তাদের চুক্তির ভবিষ্যৎ ও শুল্কের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গত গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ভারত সাম্প্রতিক একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটি জানতে চেয়েছে, তাদের সঙ্গে হওয়া ১০ শতাংশ শুল্ক- সংক্রান্ত সমঝোতা বহাল থাকবে কি না, কারণ ট্রাম্প নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার কথা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা তারা অনুধাবন করছেন। ব্যবসা ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের সামনে ‘সব পথই খোলা’ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে আদালতের রায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান শেষ পর্যন্ত অংশীদার দেশগুলোকে নতুন সমঝোতায় আনতে পারে কি না, নাকি বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হয়।

আরবিএ/আরটিএনএন