যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সক্ষমতা কমলেও ইরান এখনো এমন কৌশল ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে তারা কার্যকরভাবে হামলা চালিয়ে যেতে পারছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় চাপ বজায় রাখছে।
সাম্প্রতিক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং তাদের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কাতার সম্প্রতি ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান ব্যাপক হামলা চালালেও এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন ব্যবহার করা হলেও যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পর তা এক অঙ্কে নেমে এসেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রথম দিনের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৬ শতাংশ কমেছে। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউট।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে এখনো হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে বড় ক্ষতি হয়েছে তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা লঞ্চারগুলোতে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্যমতে, ইসরায়েল প্রায় ২৯০টি উৎক্ষেপণযন্ত্র অচল করে দিয়েছে। ফলে একসঙ্গে বড় আকারে হামলার সক্ষমতা কমে গেছে।
তবে বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং গোপন স্থাপনাগুলোর কারণে সম্পূর্ণভাবে এই সক্ষমতা ধ্বংস করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন “হ্যারাসমেন্ট ফায়ার” (বিরক্তিমূলক গোলাবর্ষণ) কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ, একসঙ্গে বড় হামলার বদলে ছোট ছোট হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধে রূপ দিতে চায়।
তারা এখন মোবাইল উৎক্ষেপণযন্ত্র ব্যবহার করছে, যা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে এবং শনাক্ত করা কঠিন। এর ফলে কম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেও দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হলেও তারা কৌশল বদলে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। বড় আকারের হামলার পরিবর্তে ছোট কিন্তু ধারাবাহিক আঘাত, ড্রোন ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক চাপ—এই তিনের সমন্বয়েই তারা এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য একটি বাস্তব হুমকি হিসেবে টিকে আছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!